ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে ভারতে কূটনৈতিক সংঘাত

নয়াদিল্লিতে জি-টোয়েন্টি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রাধান্য পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঐক্যের ডাক সত্ত্বেও পশ্চিমা বিশ্ব ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাশিয়া মরিয়া হয়ে বাখমুত শহর দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

জোরালো আক্রমণের মুখেও ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সেই চাপ সহ্য করা সম্ভব হবে কিনা, সে বিষয়ে ইউক্রেনের মধ্যেই সংশয় দেখা দিচ্ছে। সে দেশের সংসদ সদস্য স্যারহি রাখমানিন জানান, আপাতত রুশ বাহিনীর যতটা সম্ভব ক্ষতি করাই লক্ষ্য। 

জোরালো আক্রমণের মুখেও ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখনো প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
তার মতে, হয় সংগঠিতভাবে পিছিয়ে আসতে হবে, অথবা সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি জানান, তার সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিটি সেক্টরের উপর নিয়ন্ত্রণ রেখে চলেছে। উল্লেখ্য, গত প্রায় সাত মাস ধরে বাখমুত শহরের নিয়ন্ত্রণের জন্য সংঘাত চলছে।

যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক মঞ্চেও ইউক্রেন প্রাধান্য পাচ্ছে। ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে জি-টোয়েন্টি দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের প্রাক্কালে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে। 

যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক মঞ্চেও ইউক্রেন প্রাধান্য পাচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র বিষয়ক কর্মকর্তা জোসেপ বরেল জানান, এই রাষ্ট্রজোট ইউক্রেন সংকটের অবসান ঘটাতে কী করতে পারে, তার উপর সম্মেলনের সাফল্য নির্ভর করবে। তবে এই যুদ্ধ যে শেষ করতে হবে, ভারত রাশিয়াকে তা বোঝাতে পারবে বলে বরেল আশা প্রকাশ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) জি-টোয়েন্টি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে ইউক্রেন নিয়ে মতবিরোধ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট দেখিয়ে দিচ্ছে যে 'গ্লোবাল গভর্নেন্স' বা বৈশ্বিক শাসন ব্যর্থ হয়েছে। 

আর্থিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি, সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধ সেই ব্যর্থতা তুলে ধরেছে। মোদীর মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক স্তরে গভীর মত পার্থক্য রয়েছে। সেই উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে প্রত্যেকের নিজস্ব অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) জি-টোয়েন্টি গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে ইউক্রেন নিয়ে মতবিরোধ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে জি-টোয়েন্টি সদস্যদের বাকিদের কথাও ভাবা উচিত বলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন। উল্লেখ্য, ভারত ইউক্রেনের উপর হামলার সরাসরি নিন্দা না করলেও মোদী গত বছর পুতিনকে বলেছিলেন, 'এটা যুদ্ধের সময় নয়।'

জি-টোয়েন্টি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে উপস্থিত থাকছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। গত জুলাই মাসের পর আবার তারা মুখোমুখি হলেও সরাসরি সংলাপের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ব্লিংকেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলছেন না। 

তার মতে, রাশিয়া সত্যি আন্তরিকভাবে হামলা বন্ধ করতে অর্থবহ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত হয়, সে ক্ষেত্রে আমেরিকা সবার আগে এগিয়ে আসবে। তবে এই মুহূর্তে তার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে ব্লিংকেন মন্তব্য করেন। 

চীন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করার কথা ভাবছে, এমন ধারণার ফলেও উত্তেজনা বাড়ছে৷ পশ্চিমা বিশ্ব এ ক্ষেত্রে চীনের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত এখনো রাশিয়ার হামলার সরাসরি নিন্দা না করায় অস্বস্তি থেকে যাচ্ছে।