নিষ্ঠুর ও নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এস তাহেরকে। ঐ খুনের মামলায় অবশেষে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতেই হচ্ছে ড. তাহেরের সহকর্মী একই বিভাগের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিনসহ দুই জনকে। অন্যজন হলেন, নিহতের বাসার কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর। যিনি মহিউদ্দিনের প্রলোভনে পরে এই শিক্ষককে খুন করেন। এই দুই খুনি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ করেছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের আট বিচারপতির বেঞ্চ রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেয়। এই খারিজের রায়ের পর মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসি কার্যকর করতে আইনগত বাধা থাকল না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, আপিল বিভাগ ফাঁসির দুই আসামির রিভিউ খারিজ করে দিয়েছে। এখন কারা কর্তৃপক্ষ রিভিউয়ের রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আসামিদের অবহিত করবেন। তখন আসামিরা যদি প্রাণভিক্ষা চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেন, সেই আবেদন বঙ্গভবনে পাঠিয়ে দেবে কারা কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রপতি আবেদন নাকচ করে দিলে জেল কোড অনুযায়ী ২৮ দিনের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর করবে কারা কর্তৃপক্ষ।
রায়ের পর ড. তাহেরের স্ত্রী সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘রিভিউ খারিজের মধ্য দিয়ে আইনি লড়াই শেষ হলো। এই দীর্ঘ ১৭ বছরে তো অনেক দুঃখ, জ্বালা-যন্ত্রণা, কষ্ট ভোগ করেছি। আমরা তো সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। ড. তাহেরকে তো আর কোনোদিন ফিরে পাব না। যে খুনি, খুনির দল, তারা তো আমার স্বামীকে নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে নির্যাতন করে খুন করেছে। মানুষ যে মানুষকে এভাবে খুন করতে পারে, আমার ধারণার বাইরে। এখন আমাদের চাওয়া রায় যেন দ্রুত কার্যকর হয়।’ একই চাওয়া তাহেরের মেয়ে ব্যারিস্টার শেগুফতা তাবাসসুম আহমেদেরও।