প্রতিবন্ধী সেবা কেন্দ্রে হামলার অভিযোগে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৪

যশোরে সরকারি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে হামলা ও মারপিটের অভিযোগে যুবলীগ নেতাসহ ৪ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (৫ মার্চ) দুপুরে শহরের প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন থানায় মামলা করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকার আলমাসের ছেলে মাহবুব রহমান ম্যানসেল, তার সহযোগী একই এলাকার সোলমান মীরের ছেলে রাকিব হাসান, মীর শওকত আলীর ছেলে মীর সাদি ও রেলবাজার এলাকার আলী হোসেনের ছেলে অনিক হাসান মেহেদী। 

যশোর প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কনসালট্যান্ট ডা. বাপ্পি শেখর বলেন, রোববার দুপুরে ম্যানসেল নামে একজন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। রেজিস্ট্রেশন করার পর ব্যায়াম করে তার থেরাপি নেওয়ার কথা। প্রতিষ্ঠানের কর্মী আল আমিন মেশিন প্রস্তুত করে দেন। এ সময় অফিসের প্রধান প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন ডাক দিলে রুমের বাইরে যায় আল আমিন। থেরাপি মেশিন চালু না করে রুমের বাইরে যাওয়ায় ম্যানসেল ও তার সঙ্গে থাকা সহযোগীরা আল আমিনকে মারপিট শুরু করেন। এসময় মুনা আফরিন এগিয়ে আসলে তাকে গালিগালাজ করে ও মারতে উদ্যত হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল নিয়ে যায়। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল আলমসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যানসেলসহ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় মুনা আফরিন গ্রেপ্তার ৪ জনসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। সন্ধ্যায় পুলিশ গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।   

জেলা প্রতিবন্ধীবিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন বলেন, চাকরি জীবনে এমন পরিস্থিতিতে কখনো পড়িনি। অফিসে কর্মরত অবস্থায় এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে কখনও ভাবিনি।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুল আলম বলেন, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, শ্লীলতাহানি, মারপিট ও হুমকির অভিযোগে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে নিলে বিচারক কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। তাদের নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি, হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।