আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে ইউপি সদস্যের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

মাদারীপুরের রাজৈরে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যেক পরিবারের কাছ থেকে ঘর প্রতি ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক লাখ ২০ হাজার টাকাও নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যের নাম তারা মিয়া বেপারী। তিনি রাজৈর উপজেলার বাজিতপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও রাজৈর উপজেলা মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

Takerhat (PM Home) Picture (2) 6.3.2023

অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে দ্বিতীয় পর্যায়ে রাজৈর উপজেলায় ১২০টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত বছরের জুনে ঘরগুলো উপকারভোগীদের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে পরিবারগুলো জানুয়ারি মাসে জমির দলিল বুঝে পান। এসময় ইউপি সদস্য জমি আর ঘর দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৬০ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। 

আনেচ আকন নাকে এক উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেন, তারা মেম্বার জমি আর ঘর দেওয়ার কথা বলে আমার থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছে। পরে শুনি সরকারি এই ঘরের জন্য কোনো টাকা-পয়সা লাগে নাই। টাকা ফেরত চাইলে তিনি ভয় দেখান। এজন্য টাকা ফেরত পাইতে ডিসি স্যারের কাছে অভিযোগ করেছি।

শাওন ফকির নামে আরেক অভিযোগ বলেন, মেম্বার (তারা মিয়া) বলছে, ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করে দিবে এ কথা বলে চার কিস্তিতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নেয় মেম্বারের সহযোগী মাসুদ। না বুঝে কিস্তি করে ধার-দেনা কইরা অনেক কষ্টে টাকা দিছি। 

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য তারা মিয়া বেপারী বলেন, প্রতিপক্ষ এসব অসহায় মানুষকে ক্ষেপিয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক ও পরিকল্পিত। আমি ঘর দেওয়ার কেউ না তাই টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। 

রাজৈর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব এইচ এম মাহবুব হোসেন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেতে কোনো টাকা দিতে হয় না। এটি অসহায় গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার। ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে  ঘর বরাদ্দের নামে টাকা নেওয়ার কথা আগেও শুনেছি। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও রাজৈর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, অভিযোগের বিস্তারিত এখনো পাইনি। যদি কোনো ব্যক্তি ঘর বরাদ্দের কথা বলে টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ঘর দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার কথা জেনেছি। অভিযোগও করেছেন অনেকেই। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।