মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার (১০ মার্চ) কুয়ালালামপুর দায়রা আদালতে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগকে 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' মামলা বলে দাবি করেন মুহিউদ্দিন। মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে হেরে যাওয়ার তিন মাস পর বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দেশটির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা মুহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মুহিউদ্দিন ইয়াসিনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শুরু হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তার সমর্থকরা দাবি করেছেন, পদক্ষেপটি 'প্রতিশোধমূলক' এবং মুহিউদ্দিনকে রাজনৈতিকভাবে 'দুর্বল করার প্রচেষ্টা'। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গ্রেফতার ও বিচার মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

মুহিউদ্দিন যিনি ২০২০ থেকে ২০২১ এর মধ্যে ১৭ মাস দেশ শাসন করেছিলেন। তিনি হলেন দ্বিতীয় মালয়েশিয়ান নেতা যাকে ক্ষমতা হারানোর পরে আনুষ্ঠানিকভাবে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার কুয়ালালামপুরের দায়রা আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের ৪টি এবং অর্থ পাচারের ২টি অভিযোগ আনে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর গ্রেফতার ও বিচার মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

সব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন মুহিউদ্দিন। অর্থ পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে হবে। এর সঙ্গে হতে পারে বিশাল জরিমানা।

শুক্রবার আদালত মুহিউদ্দিনের জামিন মঞ্জুর করে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, তিনি মুহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেননি এবং বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ছেড়ে দিয়েছেন।

মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম

গত বছরের নভেম্বরে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই আনোয়ার কোভিড-১৯ ত্রাণ কর্মসূচিসহ মুহিউদ্দিন কর্তৃক অনুমোদিত বিলিয়ন ডলারের সরকারি প্রকল্পের পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, মুহিউদ্দিনের সরকার এসব প্রকল্পে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেনি।