ছবিটি দেখে সবাই আপ্লুত হয়েছেন, দোয়া করেছেন: নাফিজ

তরুণ অভিনেতা নাফিজ আহমেদ। গত সপ্তাহে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘ওরা ৭ জন’। দেশজুড়ে প্রশংসা কুড়চ্ছেন সিনেমাটির কলাকুশলীরা। সেই সঙ্গে প্রশংসায় ভাসছেন সুমিত চরিত্রে অভিনয় করা নাফিজ বিন্দু। সম্প্রতি সিনেমা ও নিজের কাজ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে।

আগে আপনি কি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমায় অভিনয় করেছেন?
এর আগে আমি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমায় কাজ করেছি। শামীম আক্তার পরিচালিত ‘রিনা ব্রাউন’ ছবিতে কাজ করেছি। যদিও প্রেক্ষাপটটি ভিন্ন ছিলো। এখানে খুব ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। বড় পরিসরে ‘ওরা ৭ জন’ আমার প্রথম কাজ।

ছবি: সংগৃহীত

‘ওরা ৭ জন’ সিনেমায় নিয়ে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
সিনেমাটি নিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। দর্শকরা অনেকদিন পরে আবার ভালো একটি মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা পেয়েছেন। চেষ্টা করেছি নিখুঁতভাবে অভিনয় করার। সিনেমাটি দেখে দর্শকরা ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। তারা আবেগে ভাসছেন। এটা দেখেই আমাদের ভালোলাগা।

একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে কতটা চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে?
মুক্তিযুদ্ধের চরিত্রগুলো আমার খুবই পছন্দের। ‘ওরা ৭ জন’ ছবিতে আমার চরিত্রের নাম সুমিত। সাতজনের একজন সুমিত মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, প্রেমিক যুবক ও সবার ভালোবাসার একজন মানুষ। সব ভালোবাসার মানুষদের ত্যাগ করে দেশকে ভালোবেসে সে যুদ্ধে চলে যায়। পথে পথে যুদ্ধ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গিয়ে সেই ৬ জনের সঙ্গে সে মিলিত হয়। এই চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করতে গিয়ে অনেক ধরণের বাঁধার মধ্যে পড়তে হয়েছে। একদিকে সময়ের ব্যবধান অন্যদিকে অতীত পরিস্থিতি। চ্যালেঞ্জ তো ছিলোই, তবে টিম মেম্বারদের সহযোগিতায় সবকিছু উতরে যেতে পেরেছি।

নাফিস আহমেদ

যতদূর জানি ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ‘ওরা ৭ জন’ সিনেমার একটি বিশেষ শো হয়েছে। সেখানে আপনারা সবাই ছিলেন। সিনেমাটি দেখে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিলো?
হ্যাঁ। মুক্তিযোদ্ধা যারা সেদিন ছবিটি দেখেছিলেন তারা সবাই আপ্লুত হয়েছেন। সিনেমাটি দেখে অনেকেই কেঁদেছেন। সেখানে তারা বলছিলেন- তারা যেনো ১৯৭১ সালের সেই সময়ে ফিরে গেছেন। ‘ওরা ৭ জন’ সিনেমার পরিচালক খিজির হায়াত খানসহ আমরা যারা সিনেমায় অভিনয় করেছি তাদের জন্য সেই মুক্তিযোদ্ধারা দোয়া করেছেন। একজন অভিনেতা হিসেবে এটা অনেক বড় পাওয়া।

বর্তমানে ব্যস্ততা কি নিয়ে?
এখন বেশকিছু ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ফিল্ম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। এর মধ্যে পরিচালক গৌতম কৈরির ‘আন্তঃনগর’ কাজ করছি। এটি চরকিতে মুক্তি পাবে। এছাড়া মিজানুর রহমান লাবুর ‘আমার অরণ্য’ কাজ হয়েছে। সেই সঙ্গে ঈদের জন্য কিছু কাজ করছি। সিনেমার জন্য কথা চলছে, ব্যাটে-বলে মিলে গেলে কাজ করবো।

নাফিস আহমেদ

দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন?
সিনেমার প্রাণ হলো দর্শক। তারা যদি সিনেমা না দেখেন তাহলে সিনেমা চলবে না। আমরা অভিনয়শিল্পী। আমারা ভালো করার কাজের জন্য মুখিয়ে থাকি। আপনারা আমাদের কাজ দেখুন, তারপর বলুন। কাজ ভালো লাগলে বাহবা দেবেন, আর ভালো না লাগলে গঠনমূলক সমালোচনা করে আমাদের সুধরিয়ে দিন। কিন্তু আপনারা বাংলা সিনেমা দেখুন। তাহলেই বাঁচবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি।

নাফিস আহমেদ