দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এস এম আনিসকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে গ্রেফতারকত আনিস জানিয়েছে তার প্রতারণার প্রধান সহযোগী হচ্ছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সাবেক একজন অতিরিক্ত সচিব। তার নাম হলো নিতিশ চন্দ্র সরকার। তিনি তার মাধ্যমে দুস্থ কোটায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করতেন। গোয়েন্দা পুলিশ আনিসের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে। প্রতারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র। দালিলিক প্রমাণ পাওয়ামাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।
মামলার তদন্ত সংশিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এস এম আনিস পুলিশকে জানিয়েছে তার সঙ্গে সাবেক অতিরিক্ত সচিব নিতিশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। তার মাধ্যমে তিনি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতেন। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, আনিস জানিয়েছে, নিতিশ চন্দ্র সরকার এক শিক্ষার্থীকে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তার মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আনিসের সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি রেকর্ড রয়েছে ডিবির হাতে। তবে এ পর্যন্ত কতজন শিক্ষার্থীকে তিনি ভর্তি করাতে পেরেছেন, সে তথ্য জানা যায়নি। আনিস ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব ছাড়াও জাহিদ নামের আরেক ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে লন্ডনে আছেন। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, আনিসের নেতৃত্বাধীন প্রতারণা চক্রে সদ্য অবসরে যাওয়া সরকারি একজন কর্মকর্তার নাম এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি ছাড়াও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় দালালি ও প্রতারণাবাণিজ্য করে আনিস ইতিমধ্যে দুটি হোটেল এবং রাজধানীর মনিপুরি পাড়ায় একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
ডিবি জানিয়েছে, গ্রেফতার আনিসের কাছ থেকে চলতি বছরের পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড, আগের বছরে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড, বিভিন্ন ব্যাংকের শতাধিক চেক, পুলিশ কনস্টেবল পদপ্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড, বিভিন্ন লিখিত ও অলিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, একাধিক প্যাড, পাঁচটি ডিজিটাল এবং সনাতন স্ট্যাম্প, সিল এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
ডিবি আরো জানায়, গ্রেফতার আনিস এসএসসি পাশ করে কিছুদিন পিপলস জুট মিলে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাপড়ের কারখানায় ডাইংয়ের কাজ করেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি ফার্মগেট এবং গ্রিন রোডে ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেলে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি ফরম কেনাবেচা শুরু করেন। এখান থেকেই পরিচিত হয় নিজ এডুকেশন নামক কনসালট্যান্সি ফার্মের স্বত্বাধিকারী জাহিদের সঙ্গে। তারপর থেকে আনিসও নিজস্ব কনসালট্যান্সি ফার্ম ফ্রেন্ডস অ্যাডমিশন কনসালট্যান্ট খুলে বসেন। আর এজন্য তিনি সিটি করপোরেশন থেকে একটি ব্যবসার লাইসেন্সও নেন। সেই লাইসেন্সেই তিনি দেশের এবং সার্কভুক্ত বিদেশি শিক্ষার্থীদের মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির বাণিজ্য শুরু করেন। এই কাজের জন্য নিজের প্যাডে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষদের সিট সংরক্ষণের জন্য চিঠি লিখতেন। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের লোকদের এবং মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু ও রিটায়ার্ড কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের নামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের প্রতারণা করে আসছিলেন।