একটি বেগুনি মোরগের গল্প

সাতসকালে একখানা জবরদস্ত টেক্সট মেসেজ পেয়ে রীতিমতো লাফিয়ে উঠল নারীটি। নারী মানে শফিকের বউ শামা, শফিক যার মন রক্ষার্থে প্রায়শ তাকে ‘বেবি’ বলে ডাকে। সহসা এমনতর বিদঘুটে টেক্সটের মানে কী বুঝতে না পেরে শামা মোটামুটি কোমায় চলে যাবার অবস্থা। পরে দিনপঞ্জি ঘেঁটে সে দেখল দিনটি বড়ই পয়মন্ত—৮ মার্চ। নারী দিবস। অর্থাত্ বাকি সব দিন আনাড়ি দিবস, যা কিনা সঙ্গতকারণেই পুরুষের কব্জায়। 

টেক্সটখানা কী ছিল! পাঠালই বা কে?

কে আবার? আমাদের চিরচেনা, পেশায় স্ত্রৈণ, নেকু নেকু স্বভাবের শামার স্বামী শফিকুর। নারীদিবস উপলক্ষে স্ত্রীকে সে দিলখুশ টাইপের একটা মেসেজ ঠুকে দিয়েছে। লিখেছে, বেবি, আই লাভিউ। ব্যস, তাতেই শামার অবস্থা কাহিল, কোমায় যাবার উপক্রম।

হঠাত্ স্বামীর দিলে প্রেম এমন উথলে কেন উঠল, তাই নিয়ে ভাবতে ভাবতে গলদঘর্ম আমাদের শামা। শামা জানে, এবং মানেও—তাকে অগ্রাহ্য করার ‘খেমতা’ বেচারা শফিকুরের নেই। শামার মামা কেউকেটা উকিল। কথায় কথায় পেনাল কোডের ধারা শোনায়। শফিক তাকে রীতিমতো ভয় খায়, মাঝেমাঝে পদচুম্বনও করে। ভিতু টাইপ আর কি।

কোমার ঘোর কাটলে শামা ধাতস্থ হয়। ভাবে, মন্দ কী! স্বামীটিকে যদি আসামি করে মনের জেলে পুরে রাখা যায়, তাতে আখেরে তার লাভ বেশি। পরকীয়ায় ঝুঁকবে না, গৃহস্থালি সামাল দেবে। চাই কি অবরেসবরে টুকটাক বডি ম্যাসাজও করে দিতে পারবে। এমন শান্তশিষ্ট ও গৃহপালিত স্বামী ক টা নারীর ভাগ্যে জোটে বলুন!

নারীদিবস বলে কথা। শামার আজকে কদরই আলাদা। পাড়ার পোলাপান যত সুন্দরী ভাবীসাবকে সদলবলে উইশ করতে আসছে। সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বুকে (মদনদের ভাষায় বুকেট, যেমন বুফেকে বলে বুফেট বা বাফেট), মিষ্টির ছোঁয়া। অতি সাহসী কেউ কেউ কায়দা বুঝে একটু সেন্টুও ধরিয়ে দিতে চায়। সেন্টুর ঘ্রাণে যদি প্রেমখানা একটু জুটে যায় আর কি!

আমাদের শফিককে ওরা চেনে। নির্বিষ ঢোঁড়া একটা। একটুও বিষ নেই, কুলপনা চক্করও নেই। এমন বেবোধ লোকের বউ কী করে টিকে, ওরা ভেবে পায় না। পাড়াত সূত্রে এসব দেবরদের আদিখ্যেতা বেশ খায়, আই মিন উপভোগ করে আমাদের সুন্দরী শুচিস্মিতা ভাবি শামা।

হঠাত্ এসব কী? নাশতার টেবিলে একরকম জেরা করতে থাকে শামা। যেন মহা অন্যায় করে ফেলেছে বেচারা শফিকুর। সত্যি বলতে, বউ জেরার মুডে থাকলেই শফিকুরের পেটের ভিতর অজানা ভয়ে গুড়গুড় শব্দ উঠতে থাকে। যেন সে মানুষ নয়, বনের হরিণ—বাঘের ভয়ে যার নিজের নাভি থেকেই গুড়গুড় শব্দ ওঠে।

না মানে এট্টু ভালোবাসতে ইচ্ছে হলো তো তাই। শফিকুর মুড়মুড়ে গলায় বলল। এরে কয় বেহুদা ভাব। অনর্থক স্মার্ট হবার চেষ্টা। আরে ব্যাটা, গায়ে ভালো চোগা-চাপকান চাপালেই কি আর স্মার্ট হওয়া যায়! ওটা ভেতরে থাকতে হয়। ইদানীং শফিকুরের মতো কিছু মহিলাও ক্ষয়াটে জিরো ফিগার হয়ে ভুলভাল বাংলিশ আউড়ে রীতিমতো মডেল হয়ে উঠছে।

যাক গে, মূল প্রসঙ্গে আসি। শফিকুরের উত্তর শামাকেও মোটেও কনভিন্স করতে পারেনি। শামা নাকে অদ্ভুত একরকম চিঁউচ শব্দ করে বলল, কেন, আজই কেন তোমার মেসেজ পাঠাতে হলো! মেসেজ ল্যান্ড করার শব্দে আমার এত আরামের ঘুমখানা ভেঙে চুরমার। বোকা গাধা কোথাকার। কখন কী বলতে হয় তা-ও বোঝে না। স্বামীকে একহাত নিল শামা।

না মানে, আজ তো নারীদিবস, তাই...! শফিকুর আরো কিছু বোধ হয় বলতে যাচ্ছিল। পথেই থামিয়ে দেয় আমাদের শামা। বলল, কেন! আর কোনোদিন আমাকে ভালোবাসবে না বলে ঠিক করেছ! এত্তবড় সাহস তোমার! দেখি দেখি, তোমার দিলে পশম কয়টা! বেশি তেড়িবেড়ি করলে সবগুলো পশম টেনে-খিঁমচে তুলে এনে আঁটি বেঁধে হাতে ধরিয়ে দেবো।

না মানে...!

খামোশ! মুখে মুখে আবার কথা! শামা এখন রায়বাঘিনী।

উঁহু! ব্য.....ব্য.....ব্যথা লাগবে তো!

কী হলো! গাধার মতো ব্যা ব্যা করছো ক্যান!

শফিকুর আপাতত চুপ। যদিও সে এখনো বুঝে উঠতে পারল না, বউকে আদর করে একটুকরো ‘লাভিউ’ পাঠিয়ে এমন কী পাকা ধানে মই দিয়েছে! আরে ভাই, তোমার সেলফোন, চাইলে তুমি ঘর্র ঘর্র মোডে রাখতে পারতে। আই মিন ভাইব্রেশন। তা না করে এখন যত দোষ নন্দ ঘোষ। এই জন্যই বলে, নিজে থেকে কারো ভালো করতে নেই। উপকারীকে বিড়ালের আন্টিতে খায়।

আসলে ব্যাপার কী জানেন তো, কেউ কারো অবস্থায় খুশি নয়। সাধে কি রবি ঠাকুর বলেছেন, আমি যাহা চাই ভুল করে চাই। যাহা পাই তাহা চাই না! বেচারা শফিকুর বউকে তেলাতে গিয়ে রামধরা খেল। বউ তাকে উল্টো ঘুমভাঙার অজুহাতে অভিযুক্ত করে বসল।

ভুল যেহেতু সে করেছে, শাস্তি তাকে পেতেই হবে। বলল, যাও, পার্পল রঙের শার্ট কিনে আনো। আজ আমরা সবাই মিলে পার্পল কালার শাড়ি পরবো। কী হলো, যাও।

ভাতের বদলে ভ্যাবাচেকা খেল শফিকুর। শাড়ি পরবো মানে! সেও শাড়ি পরবে! ইজ ইট পসিবল? এ কোন জামানা আইলো রে! নারীদিবসে বউয়ের সঙ্গে স্বামীকেও শাড়ি পরতে হবে!

থতমত খেয়ে বেচারা শফিকুল কোনোমতে বলল, পার্পল? ইহা কীহা? নেংটুকালের সেই মজার খেলা মার্বেলের চাচা-ভাতিজা কিছু হবে। রং বিষয়ে তার খুব একটা জ্ঞানগম্যি নেই। বউ শামা তার মামার মতো আরেক দফা পিনাল কোডের ধারা-উপধারা শোনালো। ফলত ভয়ে শফিকুরের পাতলুন নষ্ট হবার জোগাড়। ভয় এমন জিনিস, বাচ্চা থেকে বুড়ো, মামা কিংবা খুড়ো, একবার পেয়ে বসলে হাঁটু অব্দি কাঁপতে থাকে।

শফিক প্রশ্নবোধক চোখে চাইতে খেঁকিয়ে ওঠে শামা। বলে, তুমি বুঝতে যদি রং মিলিয়ে শাড়ির সাথে ব্লাউজ, কাঁচুলি বা সায়া কিনতে হতো! হাঁদারাম একটা! তখন তোমার হাড়ে দুব্বা গজাত।

শফিক নারীদিবসে আচ্ছাসে অপমান সহযোগে বউয়ের ঝাড়ি খেল। মনে মনে এই ভেবে সান্ত্বনা পেল, একটাই তো দিন মোটে। তাছাড়া ঝাড়ি আর ঝালমুড়ির মাঝে দারুণ মিল। বলাবাহুল্য, ঝালমুড়ি শফিকের বেজায় পছন্দ। শর্ষেতেল আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে মুড়িমাখা পেলে শফিক ভাতও খায় না।

রং চিনতে রং করছে শফিক। শামা তাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে শেষে ব্যর্থ হয়। এবং পরিশেষে কিচেন থেকে একখানা নধর দেখতে বেগুন এনে বলল, যাও, ঠিক এই রকম দেখতে একটা পাঞ্জাবি বা জামা কিনে আনো। আমরা একসাথে সেলফি তুলবো।

এই এক রোগ—সেলফি। শফিকের মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় মার্ক জাকারবার্গ শালাকে পেলে পেঁদিয়ে বৃন্দাবন দেখিয়ে দিত। যত দোষ জাকারবার্গের। ফেসবুক না এলে সেলফি নিয়ে এত ছলাকলা হতো না। সেলফি তুলে দেখাত কোথায়! যত্তোসব নারকীয় কারবার।

প্রসঙ্গত বলা যায়, সেলফিকাণ্ডে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের হাত পাকা। যতই নারীবাদ নারীবাদ বলে চেল্লানো হোক, বস্তুত নারীদের সস্তা করছে মেয়েরাই। মাইন্ড ইট—শব্দটা কিন্তু মেয়েরা। মানে যারা অঙ্গসৌষ্ঠবের ব্যাপারে একটু বেশিই সচেতন। কোনো ছেলের ওয়ালেটে চুনকাম সামগ্রী খুঁজে পাবেন না। কিন্তু অলমোস্ট প্রতিটি সোমত্ত মেয়ের সঙ্গে একটি করে ঝোলাব্যাগ থাকবে, যাকে কিনা ভদ্রভাষায় বলা হয় ভ্যানিটি, ভ্যানিটির অন্দরে থাকবে নানারকম খুঁটিনাটি, আই মিন রুজ-পাউডার থেকে শুরু করে মাসকারা, লিপগ্লস, আইশ্যাডো, লিপস্টিক ইত্যাদি। তার মানে কী! মেয়েদের (নারী নয়) ব্যক্তিত্বের অনেকখানি নির্ভর করে চুনকামের ওপর যা কিনা পুরোটাই কৃত্রিম ও ভড়ংপূর্ণ।

শফিক নাদান পাবলিক, সে অতশত বোঝে না। সে চেনে তার বউ শামা আর তার কেষ্টবিষ্টু মামা দুঁদে উকিল রকিবুদ্দিনকে। বউয়ের দেওয়া বেগুন নিয়ে ঝটিতি মার্কেটে ছুটল শফিক। রং মিলিয়ে কুর্তা আনা চাই। বা শামার পছন্দের কলারছাড়া জামা।

মেলা ঝামেলা পোহাল সে। জামা আছে, তবে রং নাই। ছেলেরা নাকি এমন ধারা জামা কখনো পরে না। বেগুনি রং নারীদের জন্য, তুমি পরবে সফেদ—তবেই না পারসোনালিটি খোলতাই হবে।

একটা কথা বলে নেওয়া ভালো, নইলে যথাসময়ে মেমরি বিট্রে করবে—সে হলো, আমাদের শামার সব ভালো, শুধু হাইটটুকু ছাড়া। সে দেখতে পুরাই বটম, আই মিন বাটুল, বা বলা যায় হিলসর্বস্ব।

এ বিষয়ে একদিন শফিক একটু মুখব্যাদান করেছিল মাত্র, অমনি তেড়েফুঁড়ে এল ষণ্ডা মামার রণরঙ্গিনী ভাগ্নি শামা। বিষাক্ত গলায় বলল, তুমি তো দেখছি চরম ছোটলোক, ইতর একটা। তুমি জানো না, আমার সাইজের ব্যাপারে আমার কোনো হাত ছিল না। যেখানে সাইজ দরকার তা তো আছেই। তোমার ছেলেপুলে সেই ছোটকালে খেয়েপরে তো বেশ ছিল।

হুম! বিনা নোটিশে বেরিয়ে গেল শফিকের গলা থেকে।

শামা পারতপক্ষে শফিকের গা ঘেঁষে দাঁড়ায় না। নাহ, শফিকের গাত্রগন্ধ মোটেও বমনেদ্রেককর নয়। শামা তাকে ছবির পোজে এড়িয়ে থাকে, কারণ এদের দেখে মনে হয় যেন বটের পাশে বৃক্ষ। হিমালয়ের কোলে উদখুল। উদখুল চিনেন তো! অনতিলম্ব মোড়া যার ওপর কলসি-হাঁড়ি বসিয়ে রাখা হয়।

শফিক নারীদিবসে জান কয়লা করে মূর্তিমান মর্কটের মতোন মার্কেটে মার্কেটে ঘোরে। কিন্তু শামার দেওয়া বেগুনি রং জামা আর জোটে না। এরেই কয় আপদ। শফিক এখন কী করে! কী দরকার ছিল বাবা আহ্লাদ করে বউকে ভোররাতে টেক্সট ঠোকার! সব দোষ ওই মোবাইল ফোনের। যখন ও বস্তু ছিল না, মেয়েরা কি স্বামীর পেয়ার পায়নি!     

পরে এক সহূদয় টেইলর মহাশয় শফিককে একখানা বুদ্ধি দিল। বলল, ভায়া, কাঁদছেন কেন! কাঁদবেন না। কেঁদেকেটে বউয়ের হাত থেকে কেউ কখনো নিস্তার পায়নি। আপনিও পাবেন না। বরং মাথা খাটান, নয়তো খাটের পায়ার সাথে মাথা ঠোকেন। দেখবেন মাথা খুলে গেছে। নিদেনপক্ষে খুলি ফেটে বুদ্ধি মানে মগজ বেরোবে। আপনি হাসপাতালে থাকবেন, দেখবেন সাতখুন মাপ। বউ আপনার শিথানে বসে ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদছে। না না, ভুলেও ভাববেন না, সে আপনার শোকে কাঁদছে। এই ভেবে চোখের জলে বন্যা বইয়ে দিচ্ছে যে, আপনি হাসপাতালে শুয়ে থাকলে চক্ষুলজ্জার খাতিরে হলেও তাকে দু বেলা ডিউটি দিতে হবে।   

যাক গে, নারীদিবসে শামার মেলা নিন্দেমন্দ হলো। কিন্তু বেগুন-রং শার্ট আর কেনা হলো না। তার বদলে শফিক একখানা গুয়েরং কুর্তা নিয়ে বাসায় ফিরল। এটা নাকি পার্পলের ভায়রা ভাই, চলেবল আর কি। 

শামার যথারীতি মুখঝামটা, বলি, চোখের মাথা কি খেয়ে ফেলেছ! এটা কী করে পার্পলের ধারেকাছে হলো! এটা তো গোবর কালার। পরে কী ভেবে শামা অপেক্ষাকৃত শান্ত সুরে বলল, না থাক, তোমাকে এতেই মানাবে ভালো। যেমন প্রাণী তার তেমন চামড়া।

খোঁচাটা ঠিক ধরতে পারেনি শফিক। বা পারলেও বুঝতে দেয়নি। দুনিয়াটা এমনই—একটু রয়ে সয়ে যেতে হয়। সবখানে রিঅ্যাকশন দিলে তেতে পড়তে হয়। বলছে বলুক না, তাতেই কি সে প্রাণী হয়ে গেল! যার যেমন রুচি, সে তো তেমনই বলবে। মুলো খেলে কি আর ঘিয়ের ঢেঁকুর উঠবে!

ড্রেসের কালার মনমতো হয়নি, তাই বেচারা শফিক মনোকষ্টে আছে। যখন সেলফির প্রহর এল, শফিক যেন কেঁদেই ফেলবে। এতগুলো পার্পল রং জারুল ফুলের মাঝে সে একখানা ক্যাটকেটে গাঁদা। নাকি শামার ভাষায় আস্ত গাধা!

শফিক তাল না পেয়ে শামার গা ঘেঁষে দাঁড়াল। সেলফি তুলছে শামা। শিরোনাম—শফিক-শামা। কিন্তু শামার হাত ছোট, কারণ সে উচ্চতায় খাটো। তার পায়ের নিচে এত্ত উঁচু হিল। যেন হিমালয়। সেলফি তুলতে গিয়ে বারবার কাটা পড়ে যাচ্ছে শফিকের মাথা। শেষে রেগেমেগে শামা বলল, এই, তোমার বাপ-মা খেয়েদেয়ে কাজ পায়নি! তোমার মতো একখানা জিরাফ জন্ম দিয়েছে। তুমি আরেকটু খাটো হলে কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হতো।

শফিকের মনে হলো, ইটস টু মাচ। বাপ-মা তুলে গালাগাল! কিন্তু শামার মামার ভয়ে সে খোলা মুড়ির মতো মিইয়ে মানে চুপসে গেল। সেলফি হলো। শামার সঙ্গে শফিকের গলাকাটা ছবি। পোস্ট হলো। বেজায় লাইক অ্যান্ড কমেন্টস পড়ল। পাবলিক ভেবেছে, সুপার-ইমপোজ করতে গিয়ে শামা ভুলে তার স্বামীকে উল্টো লটকে দিয়েছে। তাই গলার নলি আছে, কিন্তু মুণ্ডু নেই।

অনেক হলো, এবার বিষয়ে আসি। ৮ মার্চ, বিশ্ব নারীদিবস। কিন্তু না, শ্রীমতি নারীদের আমরা একদিন মাত্র ফুলে জলে পূজা করব না। আমরা তাদের নিত্য পূজা দিতে চাই। তবে নারীকেও নিজগুণে দেবী হতে হবে। ফুলনদেবী হলে ফুল জুটবে না, মিছে সম্পর্ক টুটবে।

নারী-পুরুষ সম্পর্ক চিরন্তন ও শাশ্বত। এদের সম্পর্ক যুগপত্ পেয়ারের ও কেয়ারের। নারীদের আমরা সম্মান করব। লাঞ্ছনা নয়, আমরা সবাই মিলে নারীদের সঙ্গে লাঞ্চ করব। তবেই না জমে উঠবে নারী-পুরুষের মাঝে মাখোমাখো ভালোবাসার হাটবাজার।