রাতে অসহায় বৃদ্ধের ঘরে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে হাজির মাদারীপুরের এসপি

রাতে সাধারণ পোশাকে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়ে স্ব-শরীরে অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে হাজির মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এই খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি । 

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম (বার) পিপিএম এর  সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির খবর শুনে চলে আসলাম। ছেলে-মেয়ে থাকার পরেও কত কষ্টের মধ্যে তাদের জীবন। রাশিদার রোজ একশ টাকা রোজগার দিয়া কত লড়াই করছে তারা। এসব কিছু ভাবতে অবাক লাগে। পরিবারটি পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজের ভাল লাগছে। অসহায় পরিবারটি যেন সব ধরণের ভাতার কার্ড পান সেই ব্যাপারে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কথা বলবো। আশা করছি, পরিবারটির এত কষ্ট আর থাকবে না।

জানা গেছে, জয়নাল বেপারীর বাড়ি ছিল মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদি এলাকায়। তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। নিজের কোনো জমি না থাকায় ছেলেমেয়েদের ঘরে আর ঠাঁই হয়নি জয়নাল ও রাশিদার। প্রায় ছয় মাস আগে ভূমিহীন এই বৃদ্ধ দম্পতিকে আশ্রয় দিয়েছে সরকার। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে রাশিদা বেগমের নামে সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে নির্মিত দেড় শতাংশ জমির একটি পাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। তবে ঘর ছাড়া আর কোনো সহযোগিতা জোটেনি রাশিদার। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে পড়েছেন মহাবিপদে। এই দম্পতি যেখানে থাকেন, সেখান থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে একটি ধানভাঙা মিলে রোজ ১০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন রাশিদা।

রাশিদার অসুস্থ্য স্বামী যে বিছানায় সারাদিন শুয়ে থাকেন সেখানে গিয়ে বসলেন পুলিশ সুপার। পরে তাদের কষ্ট আর আক্ষেপ শুনলেন তিনি। রোজার মাসে রাশিদার ঘরে যেন কোন অভাব না থাকে তার জন্য চাল, ডাল, তেল, চিনি, ছোলা, মসুরের ডাল, বুটের ডাল, মুরগী-গরুর মাংস, ডিটারজেন্ট সাবান, লাক্স সাবান, মসলা, খেজুর, মুড়ি, মাল্টা, আপেলসহ ১৫ পদের খাদ্যসামগ্রী রাশিদার হাতে তুলে দেন তিনি। এ ছাড়াও রাশিদার অসুস্থ্য স্বামী জয়নাল ব্যাপারীর ওষুধপত্র কেনার জন্য তার হাতে নদগ ৫ হাজার টাকা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, মো. মাসুদ আলম বিপিএম (বার) পিপিএম তিনি সম্প্রতি মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন। যোগদান করে তিনি জেলার ৫ থানাকে ঘুষ ও দুর্নীতি মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।  থানায় জিডি, মামলা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ কোনো বিষয়ে টাকা পয়সা লাগে না।  পুলিশ সুপারের রুমের দরজা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে ।  গরীব, দুঃখী, অসহায় মানুষগুলো যেমন সেবা পায় ঠিক বড়লোক মানুষগুলো একিই সেবা পায়। তার কাছে সবাই সমান। তার এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার মাধ্যমে ১২০ টাকা খরচে ৪৫ জন প্রার্থী পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পান ।