ন্যায্য ভ্যাট প্রদান সহযোগিতা করে আলিমুজ্জামান হয়ে উঠেছেন ‘ভ্যাটবন্ধু’

যেকোনো পণ্য কেনার পর আপনাকে নিশ্চয়ই ভ্যাট প্রদান করতে হয় কিন্ত মুশকিল হলো এমনিতেই বাজারে পণ্যের চড়া দাম, তার উপর আবার ভ্যাট! আপনার মনে হতে পারে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে টিকে থাকা কষ্ট এর মধ্যে নতুন ঝামেলা ভ্যাট আসল কোথা থেকে? আসলে সেই ১৯৯১ সাল থেকে এদেশে ভ্যাট ছিল কিন্ত বোঝার দরকার হয় নাই সকল কিছু সহনীয় পর্যায়ে ছিল বলে।

প্রতিটি পণ্যের-ই নির্দিষ্ট জীবন চক্র থাকে, সেই জীবন চক্রের হাত বদলের ফলে নির্ধারিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত কিছু মূল্য সংযোজন হয় আর সেটার উপর প্রদান করতে হয় ভ্যাট। যা সকল অবস্থায় ভোক্তা হিসাবে আপনাকে প্রদান করতে হয়। বিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক কর ব্যবস্থাই হলো Value Added Tax বা VAT (ভ্যাট), যার অন্য নাম মূল্য সংযোজন কর বা সংক্ষেপে মূসক। তবে, এই ভ্যাট এর হিসাব-নিকাশ করতে গেলেই অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।

সঠিকভাবে না জানা ও না বোঝার কারণেই ভ্যাট আইন জটিল মনে হয়। একইভাবে, ভ্যাট আইন যেভাবে সাজানো হচ্ছে, সেটাও এই প্রক্রিয়াকে আরো জটিল করে তুলছে। আবার আমরা যখন এই জটিল বিষয়গুলোর সহজ সমাধানের জন্য যথোপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাইনা, তখন নেমে আসে আরেক বিষণ্নতার ঝড়। তাই, ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সহজ করতে প্রয়োজন এমন কাউকে যিনি ভ্যাটের প্রয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে বিস্তর জানেন। ভ্যাট প্রক্রিয়ার জটিল সব সমস্যাকে সহজ করার উদ্দেশ্যে মো: আলিমুজ্জামান ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে একজন ‘ভ্যাট নিয়ে দেশের বৃহত গ্রুপের মহাব্যবস্থাপকসহ বর্তমানে কনসালটেন্ট’ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার পেশাগত জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘ভ্যাটবন্ধু’ নামে। তিনি হলেন এমনই একজন মানুষ যিনি ভ্যাটের যেকোনো জটিল বিষয় সহজভাবে দেখে দিতে পারেন  স্বচ্ছ ও সহজ সমাধান।

মো: আলিমুজ্জামান আগে ভ্যাট নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করতেন। সেখানে কাজ করার সময়ে তিনি খেয়াল করলেন যে, ভ্যাট এর সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানই মজবুত ভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তাই ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, তিনি তার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে মাঠে নামলেন একজন যোগ্য ভ্যাট কনসালটেন্ট হিসেবে। উনার কাছে যারাই কনসালটেন্সির জন্য আসেন, তারা সকলেই ভ্যাট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সঠিক গাইডলাইন পেয়ে থাকেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন ভ্যাট কমিশনার থেকে যেসকল কেইস/অডিট  হয়ে থাকে, মোঃ আলিমুজ্জামান সেগুলো আইনের আওতায় ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। এছাড়াও তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ভ্যাট নিয়ে লেখালেখি করছেন, যার মাধ্যমে তিনি ভ্যাট সংক্রান্ত নানান জটিলতা পাঠকদের মাঝে সহজ ভাষায় তুলে ধরছেন। পাশাপাশি তিনি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন বিভিন্ন সেমিনার ও ওয়ার্কশপে, যেখানে তিনি ভ্যাট নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের নানান প্রশ্নের জবাব ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ভ্যাট নিয়ে কাজ করার ভীষণ ইচ্ছা থেকেই, মোঃ আলিমুজ্জামান তার কর্মজীবন ত্যাগ করে আজ হয়ে উঠেছেন জনগণের 'ভ্যাটবন্ধু'। অদূর ভবিষ্যতে তিনি একটি রেভিনিউ বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করতে চান, যেখানে ছেলেমেয়েরা ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়ে পড়াশোনা করবে।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে ভ্যাটবন্ধু মোঃ আলিমুজ্জামান স্বপ্ন দেখেন এমন একটি দেশের- যেখানে ভ্যাট কোনো মূল্য বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াবে না, ব্যবসায়ীরাও নিজ দায়িত্বে ভ্যাট প্রদান করবে, দেশ থেকে ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা মুছে যাবে এবং ভ্যাট ব্যবস্থাপনা সকলের কাছে সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে থাকবে। আর তার এই স্বপ্ন পূরণ হবে, ভ্যাট এর সহজ ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই।