কয়লার মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের শতাধিক ইটভাটায় এ বছর লাখ লাখ টন কাঠ পোড়ানো হয়েছে। ফলে পটিয়াসহ দক্ষিণের পাহাড়গুলো এখন বৃক্ষশূন্য। বন বিভাগের গাফেলতির কারণে কাঠ পোড়ানোর ফলে ন্যাড়া হচ্ছে এই এলাকার পাহাড় ও বনভূমি। দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী, লোহাগড়া এবং বাঁশখালীতে রয়েছে শতাধিক ইটভাটা। পাহাড়ি বনের গাছ কাটা সম্পর্কে জানতে চাইলে পটিয়া রেঞ্জ অফিসার নুরুল আলম হাফিজ বলেন, সীমিত জনবল দিয়ে বিশাল এলাকা পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না। এই সুযোগে কাঠ পাচারকারীরা গাছ কেটে নিয়ে যায়।
পটিয়ায় এআরএইচ নামে একটি মাত্র ইটভাটা চালু আছে। সেটিও জনবসতিপূর্ণ এলাকায়। এর চারদিকে হাসপাতাল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং গার্মেন্টস। সরেজমিন পটিয়ার এআরএইচ ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায় ভাটার চারদিকে শত শত মণ বনজ গাছের টুকরা জমা করে রাখা হয়েছে। চুলার মুখেও সব কাঠ। কোথায়ও কয়লার দেখা নেই। ভাটার ম্যানেজার দুর্জয় বিশ্বাস জানান, কয়লায় পোষায় না। তাই কাঠ পুড়িয়েই ইট তৈরি করা হচ্ছে।পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিকুল মামুন জানিয়েছেন, ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইটভাটা মালিক সমিতির নেতা চন্দনাইশের মোহাম্মদ আলী জানান, গত বছর প্রতি টন কয়লা ছিল ৭-৮ হাজার টাকা। এই বছর সে কয়লা কিনতে হচ্ছে ২৮-৩০ হাজার টাকায়। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ালে কোনো ভাটাই চালানো সম্ভব হবে না। গত ১৩ নভেম্বর উচ্চ আদালতের দেওয়া এক নির্দেশনায় দেশের সব জেলার অবৈধ ইটভাটা সাত দিনের মধ্যে বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তেমন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার ১৫টি উপজেলায় ইটভাটা আছে ৪১৩টি। এর মধ্যে ফিক্স চিমনি (৮৯১২০ ফুট উঁচু) ইটভাটা আছে ২৭৩টি, জিগজ্যাগ চিমনি আছে ১১৬টি এবং পরিবেশ ফ্রেন্ডলি টেকনোলজির ইটভাটা আছে মাত্র ১১টি। ইটভাটা পরিচালনার জন্য ছাড়পত্র আছে ১২০টির। সংস্থাটির হিসেবে আরো ২৯৩টি ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে অনুমোদনহীনভাবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ইটভাটা রয়েছে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায়। এসব ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনের কাঠ। চন্দনাইশের কাঞ্চনাবাদ এলাকায় পেয়ারা, লেবুসহ বৈচিত্র্যময় প্রচুর ফল-ফসলাদি উৎপাদন হয়। সেখানে ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে জমির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. মুফিদুল আলম জানান, ‘জনবল সংকটের কারণে যতটুকু অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন ততটুকু করা যাচ্ছে না। তবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে।’