কুরাকাও, অখ্যাত এই দ্বীপ রাষ্ট্রটির বিপক্ষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা বড় ব্যবধানে জিততে এমনটা প্রত্যাশিতই ছিল। লিওনেল মেসিরা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। আর তা পূরণ করতে অধিনায়ক মেসিই রেখেছেন বড় ভূমিকা। হ্যাটট্রিক করে একদিকে তিনি দেশ আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন ৭-০ গোলের বড় জয়, অন্যদিকে নিজে ছুঁয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০০ গোলের মাইলফলক। ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন মেসি। তার আগে এই কীর্তি গড়েছেন শুধু দুজন, পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও ইরানিয়ান কিংবদন্তি আলি দায়ি।
পানামার বিপক্ষে আগের ম্যাচটিতেই ক্যারিয়ারের ‘৮০০’ গোলের মাইলফলকে পা রাখেন মেসি। সেদিন একটা গোল করার মাধ্যমে মেসি জাতীয় দলের হয়ে পৌঁছে যান ৯৯ গোলে। মানে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে মেসির দরকার ছিল একটি গোল। সেখানে গতকাল ভোরে কুরাকাওয়ের বিপক্ষে মেসি করেছেন হ্যাটট্রিক। ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৭৪ ম্যাচে তার গোল সংখ্যা এখন ১০২টি। তার ওপরে থাকা দুজনের মধ্যে আলি দায়ি ১৪৮ ম্যাচে করেছেন ১০৯ গোল, ১৯৮ ম্যাচে ১২২ গোল করে তালিকার সবার ওপরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো ডেল এস্তারোর এস্তাদিও স্টেডিয়ামে ম্যাচ। মেসির কীর্তি দেখার সাক্ষী হতে তাই গ্যালারিতে হমড়ি খেয়ে পড়েছিল দর্শকেরা। ৪২ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সমুদ্রের গর্জন মেসি নিজেই বাড়িয়ে দেন। ম্যাচের ২০ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে প্রথম এগিয়ে দেন তিনিই। আর এই গোলের মধ্য দিয়েই মেসি ছুঁয়ে ফেলেন ১০০ গোলের মাইলফলক।
স্বাভাবিকভাবেই গোল উদযাপনের উৎসবটা তারা করেন বেশ খানিকটা সময় নিয়ে! তার ঐ কীর্তির উৎসবের রেশ না কাটতেই আবারও গোল উৎসবে মাতার সুযোগ পেয়ে যান আর্জেন্টাইনরা। মেসির গোলের তিন মিনিট পরই দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গঞ্জালেস। ৩৩ মিনিটে মেসি করেন নিজের দ্বিতীয় গোল, দলকে এগিয়ে দেন ৩-০তে। ৩৫ মিনিটে ব্যবধান ৪-০ করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এর দুই মিনিট পরই দারুণ এক গোল করে মেসি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ম্যাচের ৩৭ মিনিটেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ৫-০ গোলে।
আর্জেন্টাইনদের গোল বন্যার এই ধারা দ্বিতীয়ার্ধে ভাটা পড়ে ঠিক, তবে ম্যাচের শেষ দিকে ঠিকই আরো দুটি গোল আদায় করে নিয়েছে মেসিদের দল। সেই গোল দুটি করেন অ্যানহেল ডি মারিয়া (৭৮ মিনিটে) ও মন্তিয়েল (৮৭ মিনিটে)। পানামা ও কুরাকাওয়ের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে টপকে ফিফা র্যাংকিংয়েও শীর্ষে উঠতে যাচ্ছে। তবে এখনই নয়, আর্জেন্টাইন পত্রিকা ক্লারিন জানিয়েছে, আগামী এপ্রিলে নতুন প্রকাশিত র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে জায়গা পাবে মেসিদের আর্জেন্টিনা। এক থেকে ব্রাজিল নেমে যাবে তিনে। এই দুই দলের মাঝখানে জায়গা পাবে ফ্রান্স।