চমেক হাসপাতাল

১০ মাস অচল এমআরআই ও ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন

প্রায় ১০ মাস যাবৎ অচল অবস্থায় পড়ে আছে চমেক হাসপাতালে এমআরআই ও ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিএমসি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় এমআরআই মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন নিয়ে রয়েছে ক্রয়সংক্রান্ত জটিলতা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনগুলোর অবস্থান তুলে ধরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না। দুটি মেশিনে সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চট্টগ্রামে আর কোনো সরকারি হাসপাতালে এ দুটি মেশিনের সেবা নেই। পরীক্ষাগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকের পক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে করানো সম্ভব হয় না।

গত প্রায় ১০ মাস যাবত্ চমেক হাসপাতালে এমআরআই ও ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত ২০১৬ সালে মেশিনটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় কেনা হয়। গত ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট রেডিওলজি বিভাগে এমআরআই মেশিনটি বসানো হয়। মেশিনটির ওয়ারেন্টি মেয়াদ ছিল তিন বছর। ফলে গত ২০২০ সালের ১৫ আগস্ট ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মেশিনটি মেরামতের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেডিটেল প্রাইভেট লিমিটেডকে জানালে তারা মেরামতের জন্য ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাহিদাপত্র পাঠায়। পরে মেডিটেল কোম্পানি মেশিনটি মেরামত করে। ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়ার জন্য সিএমসি করার জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দ্বিতীয় বার চিঠি দেওয়া হয়। ২০২১ সালের ৯ মার্চ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এক বছরের সিএমসি বাবদ ১ লাখ ১০ হাজার ডলার দাবি করেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বলছে, আগে এক বছরের জন্য সিএমসি (কম্প্রিহেনসিভ মেন্টেইন্যান্স কন্ট্রাক্ট) করতে হবে। তখন তারা মেরামতে উদ্যোগ নেবে। সিএমসি করতে গেলে প্রতি মাসে ৯ লাখ টাকা সিএমসি বাবদ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে একটি এমআরআই করতে রোগী থেকে ৩ হাজার টাকা ফি নেওয়া হয়। ফলে এত টাকা ব্যয়ে সিএমসি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান বলেন, ‘মেশিনগুলোর মেরামত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সিএমসি নিয়ে জটিলতায় মেরামতের কাজ আটকে রয়েছে।’

রেডিওথেরাপি বিভাগের ব্র্যাকি থেরাপি মেশিনটি গত ১৪ জুন ২০২২ সাল থেকে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এটি দিয়ে নারীদের জরায়ুর ক্যানসারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব প্রকৌশলীরা মেশিনটি চালু করতে চেষ্টা করলেও মেশিনের পার্টস সরবরাহ না থাকায় সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে মেশিনটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা হয়। তার জবাবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জার্মানি থেকে একসঙ্গে পাঁচটি মেশিন কেনা হয়েছিল। তার মধ্যে তিনটি মেশিনের ৩০ শতাংশ টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। টাকা পরিশোধ করা না হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেশিনগুলোর ওয়ারেন্টি  সার্ভিস প্রদান ও মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে। ফলে এখন মেশিনটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি কোথাও ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন নেই। এতে চরম বিপাকে পড়েছে জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে এক থেরাপি দিতে দেড় হাজার টাকা খরচ পড়ে। পরপর তিন বার থেরাপি দিতে হয়। বেসরকারিতে খরচ কয়েক গুণ বেশি।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এমআরআই মেশিনটি গত দেড় বছর যাবত্ নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গত ২০১৫ সালে এমআরআই মেশিনটি বসানো হয়েছে, কিন্তু মেশিনটি কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা চলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, মেশিনটি ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়ে মামলা থাকায় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা জানান, বেসরকারি হাসপাতালেও এসব মেশিন কেনা হয়। কিন্তু তাদের সার্ভিসে কোনো সমস্যা হয় না। যত সমস্যা সরকারি হাসপাতালের মেশিনে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ১০-১২ বছরের ওয়ারেন্টি সার্ভিস নিশ্চিত করে মেশিন কিনে থাকে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের মেশিনে ওয়ারেন্টি থাকে তিন-চার বছর। ফলে ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্বল চুক্তির কারণে ভারী মূল্যবান এসব মেশিনের চিকিত্সাবঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।