মাত্র সাত মাস আগে পরিবারের সুখের আশায় ধার দেনা করে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন মাদারীপুরের রুহুল আমিন। কিন্তু সেই ঋণ শোধ করার আগেই সৌদিতে বাস দুঘর্টনায় মারা যান তিনি। এতে রুহুলের পরিবারে শোক যেন থামছেই না। দুই সন্তান, স্ত্রী আর বিধবা মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।
পরিবারের দাবি, সরকারি সহযোগিতায় যেন রুহুলের লাশ দেশে আনা হয়। সেই সঙ্গে ঋণ পরিশোধে সাহায্য কামনা পরিবারটির।
সরেজমিনে রুহুল আমিনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠান ভর্তি মানুষ। চলছে স্বজনদের আহাজারি। মা রাবেয়া বেগম আর বোন রুনা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।
রুহুল আমিনের মা রাবেয়া বেগম বলেন, আমার বাজান অনেক ভালো ছিল। কখনো নিজের কষ্টর কথা আমাগো কইতো না। আমাগো পাঁচটা মানুষের ভরসা ছিল। আইজ আল্লা আমার বাজানরে কই রাখছে জানি না। তোমরা আমার রুহুলের খোঁজ আইন্না দাও। ওরে আমি দেখতে চাই।
সোমবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের আসির প্রদেশের আবহা এলাকায় ব্রেক ফেল করে সেতুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে যাত্রীবাহী বাস উল্টে যায়। এতে বাসটিতে আগুন ধরে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় রুহুল আমীন নিহত হন। প্রথমে পরিবার বিষয়টি না জানলেও (২৯ মার্চ) গণমাধ্যমে রুহুলের নাম দেখে খোঁজ পান তারা।
মাদারীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাইনউদ্দিন বলেন, আমরা এখনো নিশ্চিত নই উনি জীবিত আছেন নাকি মারা গেছেন। তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তবে তার পরিবারের ধারণা তিনি মারা গেছেন। সঠিক তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরে বাকি কার্যক্রম শুরু করা হবে।