জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপিত

‘সুদিনের আশায় দিন গুনছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র’

একেবারে থেমে না গেলেও হারিয়ে গেছে বাংলা চলচ্চিত্রের সেই সোনালি সময়। তবে, সেই স্বর্ণালি দিন আবার ফিরে আসার প্রত্যাশায় গতকাল উদ্যাপিত হলো জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস। দিবসটি উদ্যাপনে ‘সবার জন্য চলচ্চিত্র, সবার জন্য শিল্প-সংস্কৃতি’  প্রতিপাদ্যে শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয় গতকাল সোমবার।

এদিন সকাল থেকেই সরব হয়ে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি আঙিনা। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার ৪ নম্বরে গ্যালারিতে শুরু হয়েছে চলচ্চিত্রের পোস্টারে। হাল আমলের দর্শকসমাদৃত হাওয়া থেকে সোনালি সময়ের রূপবান কিংবা বেদের মেয়ে জোছনা ছবির বৈচিত্র্যময় পোস্টারগুলো নজর কেড়েছে দর্শকদের। রয়েছে চলচ্চিত্রের আলোকচিত্র। এছাড়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে চলেছে সিনেমার প্রদর্শনী। আগামীকাল বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  চলবে এই প্রদর্শনী।

বিকালে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলীর লাকীর সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে অংশ নেন প্রখ্যাত মসিহউদ্দিন শাকের, মানযারে হাসিন মুরাদ, মুশফিকুর রহমান গুলজার, শামীম আখতারসহ তরুণ প্রজন্মের নির্মাতারা।

মানযারে হাসিন মুরাদ বলেন, এই দিবসকে কেন্দ্র করে আমাদের চলচ্চিত্রের অতীত কর্মকাণ্ড, বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক ধরনের বোঝাপড়া করতে হবে। সংকটের সমাধান করে চলচ্চিত্রের সুদিন ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি নির্মাণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ছবির অনুকরণ না করে মৌলিক দেশজ চলচ্চিত্রের বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এফডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা প্রায় ব্যর্থ হয়েছে। যদিও স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে।

মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, চলচ্চিত্র যে মন্ত্রণালয়ের অধীন সেই মন্ত্রণালয়ের চলচ্চিত্রের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। সেই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ঘটাতে হবে। কারণ, চলচ্চিত্র একই সঙ্গে আর্ট এবং ইন্ডাস্ট্রি। তাই জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে চলচ্চিত্রের সংযোগ থাকতে হবে।  

মুশফিক রহমান গুলজার বলেন, চলচ্চিত্র নিয়ে প্রচুর সভা-সেমিনার হলেও নির্মাণ কমছে। চলচ্চিত্রের মানও নিম্নমুখী হচ্ছে। অন্যদিকে ছবির সংকটে পেক্ষাগৃহ কমছে।  সেই প্রেক্ষাপটে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মান ও কন্টেন্ট নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।