আসলেই টাকা না থাকায় দল পাঠায়নি মিয়ানমারে

মিয়ানমারে মেয়েদের ফুটবল দল না পাঠানোর কারণে সমালোচনা হচ্ছিল। নানা কথা ফুটবল অঙ্গনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সমালোচনার তোপে পড়ে মুখ খুললেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। হঠাৎ সংবাদ সম্মেলন করে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন মুখ খুললেন। বললেন, ‘টাকা নাই। সংকট। দল পাঠাতে পারেনি। আসলেই টাকা নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৪ এপ্রিল আরেকটা দল সিঙ্গাপুর যাবে। আর সিনিয়রদের দল যাবার কথা ছিল মিয়ানমারে। অলিম্পিক গেমস ফুটবলে। কিন্তু বিওএ টাকা দেয়নি। আমি বিওএর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তারা আমাকে টাকা দেবে না। জানিয়ে দেয়। আমি মন্ত্রণালয়ের কাছে টাকা চেয়েছিলাম, পাইনি। স্পন্সরদের সঙ্গে কথা বলেছিল, তারাও এগিয়ে আসেনি।’

১ কোটি টাকা লাগবে মিয়ানমার পাঠাতে। কিন্তু ফেডারেশনের ১ কোটি টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই কেন। এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বললেন, ‘২০-২৫ কোটি টাকা তো জোগাড় করি। কুয়া থেকে পানি তুলতে তুলতে এক সময় ফুরিয়ে যায়। তখন কেউ আর দিতে চায় না। আমাদের তো সুনাম নেই। মিডিয়াতে সুনামের চেয়ে দুর্নাম বেশি। ইমেজ সংকট আছে। কারণ মেয়েরা যখন জয় পায় তখন ওদের বাড়ির খবর আসে। আমি যে আড়াই কোটি টাকা খরচ করে টেকনিশিয়ান এনে কাজ করাচ্ছি সেটি আলোচনায় আসে না।’ 

সালাহউদ্দিনের দুঃখ-সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যেভাবে অনেকেই এগিয়ে এসেছিল তারা কেউ আসেনি। কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়নি।

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও জানতে চাওয়া হয়েছিল, কেন মিয়ানমার গেল না ফুটবল দল। কত টাকা প্রয়োজন ছিল। এসব কথা যখন হয় তখন যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আসলে তাকে না জানানোটাই আমার বড় ভুল ছিল।’ 

এই আলোচনার আগেই বাফুফে এএফসিকে জানিয়ে দিয়েছিল তারা মিয়ানমার যাবে না। আর এএফসিও নতুন করে গ্রুপিং ঘোষণা করে জানিয়েছে ইরান এবং মিয়ানমার খেলবে। এই গ্রুপেই ছিল বাংলাদেশ।’

এর আগে নেপালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মেয়ে ফুটবলারদের বেতন বোনাস বাড়ানোসহ নানা আবদার জানিয়েছিলেন সাবিনা খাতুনরা। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সেই বিষয়টি তুলে সালাহউদ্দিন বললেন, ‘তিন দিন অনুশীলন করেনি খেলোয়াড়রা। আমি সময় চেয়েছিলাম। তিন মাস। এর আগেই ওরা অনুশীলন বর্জন করেছে।’ 

সালাহউদ্দিন তার ফুটবলারদের দাবির যৌক্তিকতা দেখছেন। বেতন ৫০ হাজার টাকা করতে হবে। ম্যাচ ফি, বোনাস দিতে হবে। খাবার মান বাড়াতে হবে। বুট কিনে দিতে হবে। সালাহউদ্দিন বললেন, ‘বেতনের দাবি ছাড়া অন্যসবই যুক্তিসংগত। কিন্তু আমি সময় চেয়েছিলাম। আমি হিসাব করে দেখেছি কত টাকা লাগবে। তাতে হচ্ছে না।’

বাফুফে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার ফুটবল উন্নয়ন বাজেট দিয়েছিল। সেটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যাচাইবাছাই করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে অনুমোদন হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অসম্মতি জানানো হয়।