জাপানে ভেন্ডিং মেশিনে বিক্রি হচ্ছে ভালুকের মাংস

ভালুকের মাংস বিক্রি হচ্ছে জাপানের স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিনে। আড়াইশ গ্রাম মাংস ২০০০ ইয়েন (জাপানি মুদ্রা) বা ১৭ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। সে অনুযায়ী প্রতি কেজি মাংসের দাম ৬৮ ডলার। দেশটির স্থানীয় একটি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের ভেন্ডিং মেশিনে পাওয়া যাচ্ছে বন্য ভালুকের মাংস। আগে মেশিনগুলোতে তিমির মাংস ও টিনজাত শামুক বা ভোজ্য পোকামাকড় পাওয়া যেত। আর নতুন আইটেম হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভালুকের মাংস। জাপানের সেম্বুকো শহরে এটি দেখা যায়।

ভালুকের মাংস বিক্রি হচ্ছে জাপানের স্বয়ংক্রিয় ভেন্ডিং মেশিনে।

জাপানি সংবাদপত্র মাইনিচি শিম্বুনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে শিকার করা কালো ভালুকের কিছু অংশ ভেন্ডিং মেশিনে পাওয়া যায়। গ্রাহকরা ভেন্ডিং মেশিন থেকে পাতলা বা চর্বিযুক্ত মাংস কিনতে পারেন। প্রতি ২৫০ গ্রামের জন্য তাদের দুই হাজার ইয়েন গণনা করতে হবে।

কালো ভালুক এশিয়াতে বেশি দেখা যায়। তবে, বর্তমানে এই প্রাণীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। এই কারণেই কালো ভালুককে আন্তর্জাতিকভাবে বিপন্ন হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। তবে, জাপানে এই ধরনের ভালুকের একটি বড় সংখ্যা দেখা যায়। 

স্থানীয়ভাবে শিকার করা কালো ভালুকের কিছু অংশ ভেন্ডিং মেশিনে পাওয়া যায়।

জাপান সরকার এই প্রাণীর সংখ্যা সীমিত করার জন্য শিকারের অনুমতি দিয়েছে। আকিতা প্রশাসনিক অংশে উত্তরাঞ্চলের শহর সেম্বুকোর সোবা গোরো রেস্টুরেন্টে প্রতি সপ্তাহে দশ থেকে ১৫ প্যাকেট ভালুকের মাংস বিক্রি হয়। 

এই ভালুকগুলো শহরের নিকটবর্তী পার্বত্য অঞ্চল থেকে স্থানীয় শিকারিদের দ্বারা শিকার করা হয়। শিকারের মরসুমে ভেন্ডিং মেশিনগুলো খালি হয়ে যায়। ভেন্ডিং মেশিনগুলো জাপানের শহর এবং এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেও পাওয়া যায়। 

জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে তিন থেকে সাত হাজার ভালুক মারা গেছে। এদের অধিকাংশই মানুষের শিকার, আবার কেউ কেউ পশুর আক্রমণের শিকার। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১৫ হাজার কালো ভাল্লুক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।