অনুমতি ছাড়া নিজের জমিতে বিদ্যালয় স্থানান্তর, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে দুধল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের প্রায় ২৬ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি সরকারের যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় স্থানান্তর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার করতে নিয়মবর্হিভূতভাবে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও আসবাবপত্র সরিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তিতে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। পরে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা বিদ্যালয়টি যথাস্থানে ফিরিয়ে আনতে দফায় দফায় চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

bakergong borisal-2

জানতে পেরে ফেব্রুয়ারি ২০২২ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স্বাক্ষরিত একপত্রে জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তিন কার্যদিবসের মধ্যে পূর্বের এমপিভুক্তির স্থানে স্থানান্তর ও শ্রেণি পাঠদান পরিচালনার নির্দেশ প্রদান করলে প্রধান শিক্ষক বর্তমান জায়গায়ই পাঠদান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে মাউশির আদেশের স্থগিতাদেশ নিয়ে আসেন।

পরে গত ১৩ মার্চ, ২০২৩ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের নির্দেশে অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান ও সহশিক্ষা পরিদর্শক মোহাম্মদ ওয়ায়েছ আলকারনী মুন্সী বিদ্যালয়ে সরেজমিন তদন্তে এলে তাদের সামনেই ভুক্তভোগী এলাকাবাসী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শামসুল আলম মন্টুর ওয়াকফার পূর্বের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়ে কয়েক দফায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

সুন্দরকাঠী গ্রামের শিক্ষানুরাগী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ১৯৯৭ সালে সুন্দরকাঠী গ্রামে স্থাপিত জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০০০ সালে পাঠদানের স্বীকৃতি এবং ২০১৯ সালে সরকারি এমপিওভুক্ত হয়। তাছাড়া বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়েছিল দুধল ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম যথাক্রমে গোমা, পিলখানা ও সুন্দরকাঠী এলাকার নামানুসারে। ওই তিন এলাকার শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে স্কুলটি সুন্দরকাঠী গ্রামে প্রতিষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে বিদ্যালয়টি সেখানেই প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য অলি আহাদ বলেন, জিপিএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের জমি রয়েছে প্রায় ১৯০ শতাংশ। অথচ কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ও বিধি বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়টির ক্যাম্পাস ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্যত্র স্থানান্তর করেন প্রধান শিক্ষক মোঃ আহসান হাবিব মোল্লা। 

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তহামিনা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব মোল্লা তার বড় ভাই ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে গোমা এলাকার নিজেদের বাড়ির পাশে ভবন করে নতুন ক্যাম্পাস করে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সরকারের অনুমতি ব্যতীত বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু করে। এতে অভিভাবক ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা তপন কুমার দাস বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদ্যালয়ই স্থানান্তরের সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের তদন্ত চলমান আছে।