সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি আমার হবে না: সালাহউদ্দিন

দেশের ফুটবলে যখন জামাল ভুঁইয়ারা সুখের খবর দিতে পারছেন না, একের পর এক ব্যর্থতার খবর দিচ্ছিলেন। তখন নারী ফুটবলাররা সাফল্যের খবর দিলেন দেশের ফুটবল প্রিয়দের কাছে। কিন্তু আচমকা নারী ফুটবলের সেই সুখের ঘরে কারা আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যরকম গন্ধ ফুটবল অঙ্গনে। নারী ফুটবলাররা কথায় কথায় বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এবং নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণকে ধন্যবাদ জানান। 

দুদিন আগেও সালাহউদ্দিন তার পকেট থেকে মেয়েদেরকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। ওদের খুশি দেখতে হিসাব ছাড়া টাকা তুলে দেন। তাহলে কেন মেয়েরা ফুটবল অনুশীলন বর্জন করেছিলেন। এই মেয়েরা তো সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন করছিলেন। হঠাৎ নারী ফুটবলাররা কেন প্রতিবাদে নেমে গেল। কারা নারী ফুটবলের সুখের ঘরে আগুন দিতে চাইছে। ঘরের মধ্যেই শত্রু নাকি বাইরের কেউ আগুন লাগাবার চেষ্টা করছে।

তিন দিন অনুশীলন না করে তারা বেতন, বোনাস, ক্রীড়াসামগ্রী, উন্নত মানের খাবার দাবি করেছে। আলোচনা করে সময় চেয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি। কিন্তু সেদিকে না তাকিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন খেলোয়াড়রা। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন তিনি খুবই মন খারাপ করেছেন।

বাফুফে ভবনের ক্যাম্পে থাকা ফুটবলার সবাই অনুশীলন বর্জন করেননি। সাফে যারা খেলেছিল তাদের মধ্যে ১৬ জন ফুটবলার অনুশীলন করেননি। অন্যরা অনুশীলন করেছেন। মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, ‘আমরা খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে বুঝিয়েছি। তারপরও অনুশীলন করেনি। আমরা এত কিছু করলাম তারপরও ওরা কেন এমনটা করল বুঝলাম না।’ কেউ এই মেয়েদের পেছনে ইন্ধন দিচ্ছে কি না-এমন প্রশ্ন উড়িয়ে দেন কিরণ।

পুরুষ ফুটবলে কোনো উন্নতি নেই। কেন ব্যর্থতার খবর বার বার ফুটবলকে আঘাত করছে। ফুটবলাররা মাঠে নামার আন্দোলনে ছিলেন। লিগ নেই। খেলা নেই। আন্দোলনের মঞ্চ বসিয়ে ছিলেন ফুটবলাররা। ফুটবল যখন সংকট মুহূর্তে তখন দেশের ফুটবলে সভাপতি হয়ে আসেন কাজী সালাহউদ্দিন। ফুটবলারদের ভাগ্য উন্নয়নে ফুটবল মসনদে কথা প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলেরই কিছু মানুষ বিরোধিতা করতে শুরু করেন। সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার প্রথম দিন থেকেই শুরু হয় অসহযোগিতা। 

সালাহউদ্দিনকে কাজ করতে দেবেন না এমন একটা পক্ষ সালাহউদ্দিনকে আঘাত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ফুটবলকে আঘাত করে আসছিলেন। একটা দিনও তাকে শান্তিতে কাজ করার সুযোগ দেননি। কীভাবে সালাহউদ্দিনকে ব্যর্থ সভাপতি করা যায় তার জন্য প্রতিনিয়ত তীর ছুঁড়ে গেছেন। ফুটবলের ভাগ্য উন্নয়নে ব্যর্থ হয়ে সালাহউদ্দিন চলে যাক। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরিণতি কি হতে যাচ্ছে সালাহউদ্দিনের। প্রশ্নটা করা হয়েছিল সালাহউদ্দিনকে। তিনি বললেন, ‘সিরাজউদ্দৌলা মীরজাফর চিনতেন না। আমি চিনি, কারা ফুটবলের মীরজাফর। সিরাজদ্দৌলার পরিণতি আমার হবে না।’