বেতন না পেয়ে বিপাকে এফডিসির কর্মচারীরা, এমডির আশ্বাস

চারমাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এফডিসির ২২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। তাদের দাবি, বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানালেও এ বিষয়ে সাড়া মিলছে না কর্তৃপক্ষের।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনে নামেন তারা। এ সময় এফডিসির ২২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতনের দাবি তুলে স্লোগান দেন। এরপর সবাই দলবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত ইয়াসমিনের কার্যালয়ে যান। তার কাছে জমা দেন বেতন-ভাতার দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি।

এফডিসিতে ৩৫ বছর চাকরি করছেন শরিফা বেগম। তিনি বলেন, ‘বেতন পাই না চার মাস। চাকরি করি বলে ছেলে মেয়েরাও টাকা দেয় না। এখন খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। সেহরিতে শুধু পানি-ভাত খেয়ে রোজা রাখছি, ইফতারে একটা খেজুর কেনারও সামর্থ্য নেই। শুধু পানি দিয়ে ইফতার করি।'

এফডিসি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানকার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন সরকারের পক্ষ থেকেই আসে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান হলেও এর বেতন-ভাতা আসে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে।

ছবি: সংগৃহীত

সূত্র জানায়, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আসা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, নিজস্ব আয় দিয়ে এফডিসির কার্যক্রম পরিচালনা করতে। এতেই বিপাকে পড়েন প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা। কারণ বহু বছর ধরেই এফডিসির আয়-রোজগারের অবস্থা নাজুক।

এফডিসির কলাকুশলী ও কর্মচারী শ্রমিক লীগের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, বৃহস্পতিবার স্মারকলিপি নিয়ে এমডি বরাবর জমা দিয়েছি। তিনি পূর্বের মতো আশ্বাস দিয়েছেন আগামী সপ্তাহে সুখবর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বারবার তার আশ্বাসে আমরা হতাশ হয়েছি। যদি আগামী সপ্তাহে আমাদের তিন মাসের বেতন সবমিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা না পাই তাহলে আমরা ২২৩ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্ম বিরতিতে যাবো।

এদিকে এমন দুরবস্থার মধ্যেও নির্বিকার-নিশ্চুপ রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। কর্মীদের আন্দোলনের সময় অফিস কক্ষে থাকলেও তিনি এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের কারও সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। মুঠোফোনে কল দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।