রাজধানীর উত্তরায় কসমো ফিলিং স্টেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে ন্যায়বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ফিলিং স্টেশনের কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে একটি রেস্তেরাঁয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক গাজী আব্দুর রব রাজউকের বিরুদ্ধে আদালতের রায় তোয়াক্কা না করে অভিযান পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠান সিলগালার অভিযোগ এনেছেন।
গাজী আব্দুর রব জানান, ২০০০ সালে ২৫ বছরের চুক্তিতে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের ৬৯ নম্বর প্লটটি রাজউকের কাছ থেকে লিজ নিয়ে সেখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর থেকে রাজউক সংশ্লিষ্ট একটি মহল অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে স্থানটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার অপতৎপরতা চালিয়ে আসছিল। সমাধান পেতে আইনি লড়াইয়ে হাইকোর্টে এ নিয়ে রিট করলে ওই প্লটের ওপর আদালত স্টে-অর্ডার (ইনজাংশন) জারি করেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ করে রাজউকের এক ম্যাজিস্ট্রেট দুই-আড়াইশ’ লোকজন নিয়ে এসে ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালান এবং এক পর্যায়ে আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে টিনের বেড়া দিয়ে সিলগালা করে তারা চলে যান। এ সময় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতের স্টে-অর্ডার দেখালে তিনি আদালতের রায়কে তোয়াক্কা না করেই আমার দীর্ঘদিনের পরিচালিত প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেন। এতে আমার প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের বড় ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফিলিং স্টেশন মালিক বলেন, এর আগেও রাজউক আমার প্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। সেসময় আদালতের স্টে-অর্ডার দেখালে তারা (রাজউক) চলে যায়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাজউকের ওই ম্যাজিস্ট্রেট ফিলিং স্টেশন সিলগালা করে চলে গেছেন। সংবাদ সম্মেলনে, ফিলিং স্টেশনে কর্মরত শ্রমিকরা অভিযোগ করেন অভিযানের সময় তাদেরকে ভয়ভীতি ও মারধর করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার উত্তরার ওই এলাকায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এসময় কসমো ফিলিং স্টেশন নামের ওই প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দেন রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্ছেদ অভিযানটির নেতৃত্ব দেন রাজউক জোন-৩ এর উপ-পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা সারোয়ার। তিনি বলেন, আদালতের আদেশের লেটেস্ট কোনো কপি আমি পাইনি। তারা পুরাতন কাগজপত্র দেখিয়েছে। কিন্তু পুরাতন কাগজপত্রের বিপরীতে রাজউকের লেটেস্ট অর্ডার বলেই সেখানে আমি গিয়েছি।
তিনি জানান, অফিসিয়াল আইন শাখার মতামত এসেছে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে এখানে (কসমো ফিলিং স্টেশন) কোনো বাধা নেই- এই মতামতের ভিত্তিতে আমাকে সেখানে পাঠানো হয়েছে এবং রাজউক চেয়ারম্যান কর্তৃক ৪ তারিখে স্বাক্ষরিত মতামতের ভিত্তিতে আমি প্রসেড (প্রক্রিয়া) করেছি।
অভিযানে কসমো ফিলিং স্টেশনে শ্রমিকদের ভয়ভীতি ও মারধরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো গায়ে কোনো হাত দেওয়া হয়নি। আমরা তাদেরকে মুখে বলে সেখান থেকে সরে যেতে বলেছি। সেখানে কারও সঙ্গে অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।