নিয়ম ভেঙে অর্থের বিনিময়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সরকারি কলেজে সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে জুনিয়র শিক্ষক সামসুল আলমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে বিদায়ী অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলামের বিরুদ্ধে।
রোববার (৯ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে দাঁতভাঙা বাজারে চাঁন মিয়ার দোকানে বসে এ দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলী কলেজের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি ভেঙে দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি ছবি ফাঁস হয়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, অধ্যক্ষ ছামিউল ও দায়িত্ব বুঝে পাওয়া শিক্ষক সামসুল আলম সবার উপস্থিতিতে কলেজের আদেশ বইতে স্বাক্ষর করছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দোকান মালিক চাঁন মিয়া।
জানা যায়, ২০১৮ সালে রৌমারী ডিগ্রি কলেজটি সরকারি হিসাবে গেজেট প্রকাশ হয়। এখনো শিক্ষক-কর্মচারীদের আত্তীকরণ হয়নি। এদিকে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল অধ্যক্ষ ছামিউলের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি গোপনে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলীকে বাদ দিয়ে সামসুল আলমকে অধ্যক্ষের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব দেন।
হায়দার আলী অভিযোগ করে বলেন, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে কর্মরত রয়েছি। কিন্তু আমাকে বাদ দিয়ে অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম টাকার বিনিময়ে গভীর রাতে যেভাবে জুনিয়র শিক্ষক সামসুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে তা বিধিসম্মত নয়।
তবে সামসুল আলম বলেন, যোগ্য হিসাবে আমি দায়িত্ব পেয়েছি। এত রাতে দোকানে বসে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পর্কে তিনি বলেন, রাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর করেছি তা সত্য। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলী জামাতপন্থি হওয়ায় তাকে কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব দেয়নি। তবে এ দায়িত্ব পেতে আমি কাউকে কোনো টাকা দিইনি। কেউ বললে তা মিথ্যা।
বিদায়ী অধ্যক্ষ ছামিউল ইসলাম বলেন, যোগ্য হওয়ায় সামসুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছি। বর্তমানে আওয়ামী লীগ করেন তিনি। আর হায়দার আলী জামাতের উপজেলা সাবেক আমির ছিলেন। এজন্য তাকে আমরা দায়িত্ব দেইনি। কোনো অর্থ লেনদেন হয়নি। কলেজে পরিবেশ না থাকায় এবং সময় স্বল্পতার কারণে দোকানে বসে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) শামছুল আলম বলেন, সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) পদে বসানো যাবে না বলে মাউশির একটি বিধিপত্র দিয়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। তারপরও বিধি ভেঙে কেউ জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলেজের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সারোয়ার রাব্বী জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে আমি নিয়ম অনুসারে মাউশিতে জ্যেষ্ঠতার তালিকা পাঠানো হয়েছে। এ পদে কে থাকবে তা নির্ধারণ করবে মাউশি। আমি মাউশির বিধির বাইরে কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার এখতিয়ার রাখি না।