রোনালদোকে ছাপিয়ে যাওয়ার ম্যাচেই ‘১০০০’ কীর্তি মেসির

ঠিক আগের ম্যাচটিতেই নিজ দলের সমর্থকদের কাছ থেকে দুয়ো শুনেছিলেন। সেই দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে ফেলতেই কি না পরশু নিসের বিপক্ষে মাঠে স্বরূপে ধরা দেন লিওনেল মেসি।  দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ক্লাব পিএসজিকে জেতাতে মেসি একটা গোল নিজে করেছেন, আরেকটি গোল সতীর্থ সার্জিও রামোসকে দিয়ে করিয়েছেন। এই দুটি গোলেই দুটি কীর্তি গড়েছেন মেসি। আর তার দল পিএসজিও পেয়েছে ২-০ গোলের জয়। যে জয়ে লিগ শিরোপার দাবিটা আরো একটু জোরালো হলো পিএসজির।

হ্যাঁ, দলের দুই গোলে দুটি কীর্তিই গড়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী নায়ক। নিসের মাঠে গিয়ে ম্যাচের ২৬ মিনিটেই পিএসজিকে এগিয়ে দেন মেসি। এই লিড ধরে রেখেই জয়ের পথে হাঁটছিল পিএসজি। তবে ৭৬ মিনিটে ঠিকই আরেকটি গোল পেয়ে যায় পিএসজি। যে গোলটি করেছেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার সার্জিও রামোস। তবে রামোসকে পাসটা দিয়েছিলেন মেসিই।

প্রথম গোলটি করার মাধ্যমে মেসি এককভাবে নিজের দখলে নিয়েছেন ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি। তিনি ছাড়িয়ে গেছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে মেসির গোল সংখ্যা এখন ৭০২টি। ৭০১ গোল নিয়ে রোনালদো নেমে গেলেন দুইয়ে। পর্তুগিজ সুপারস্টার যেহেতু ইউরোপ ছেড়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন, কাজেই তার পক্ষে মেসিকে টপকে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

রোনালদোকে টপকে যাওয়া এই গোলটির মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে মেসির অবদান রাখা গোলের (নিজের করা গোল ও সতীর্থকে দিয়ে করানো গোল বা অ্যাসিস্ট) সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৯৯টি। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি। মেসির পাস থেকেই দারুণ এক গোল করেছেন রামোস। আর তার ওই গোল মেসিকে বসিয়েছে ‘১০০০’ কীর্তির আসনে। মানে রামোসের গোলটির মাধ্যমে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে মেসির প্রত্যক্ষ অবদান রাখা মোট গোল হলো ১০০০টি। এর মধ্যে নিজে করেছেন ৭০২ গোল, অ্যাসিস্ট করেছেন ২৯৮টি। 

মানে আগামী দুই-এক ম্যাচেই মেসি গড়ে ফেলবেন ‘৩০০’ গোল অ্যাসিস্টের মাইলফলক। তবে পরেরটা পরের বিষয়। দলকে জয় এনে দেওয়ার মাধ্যমে অনন্য দুটি কীর্তি গড়ে মেসি এমনিতেই খুব আনন্দে আছেন। ও হ্যাঁ, কিলিয়ান এমবাপ্পেও নিসের বিপক্ষে পুরোটা সময় খেলেছেন। তবে পুরোটা ম্যাচেই তিনি ছিলেন মেসির ছায়া হয়ে।