নেত্রকোনার নদনদী শুকিয়ে যাচ্ছে, নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ

নেত্রকোনা জেলার প্রধান প্রধান নদনদী দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় এখন নাব্যসংকটে পড়েছে। বছরের পর বছর ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ঢলের সঙ্গে আসা বালির কারণে অনেক নদীও ভরাট হয়ে গেছে। নদীগুলো পলি পড়ে এখন অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অনেক নদীর গতিপথ লোপ পেয়ে খালে পরিণত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। নদীতে পানির অভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এক সময় সারা বছর যে সমস্ত নদীপথে চলত ব্যবসাবাণিজ্য, এখন আর তার কোনোটাই নেই। নদীর নাব্য হারানোর পাশাপাশি নদীতে অপরিকল্পিতভাবে সেতু নির্মাণ করায় নৌবাণিজ্য বলতে এখন এর কোনো কিছু নেই।

নেত্রকোনা পনি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় সাতটি বড় নদনদীসহ মোট ১২২টি ছোটবড় নদী ও খাল ছিল। নেত্রকোনা জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া বৃহত্ সাতটি নদীর মোট দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার ও ছোটবড় ১১৫টি নদীর দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ১২৫ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন যাবত্ এসব নদনদী খনন না করায় পলি পড়ে বেশির ভাগ নদনদী খালে পরিণত হয়েছে। এছাড়া অনেক নদী ও খালের অস্তিত্ব নেই। বর্তমান প্রজন্মের লোকজন অনেক নদীর নাম পর্যন্ত জানে না। নেত্রকোনা জেলার ১২২টি নদনদীর মধ্যে বড় সাতটি নদী হলো কংশ, মগড়া, সোমেশ্বরী, উব্দাখালী, ধনু, ভোগাই ও গুমাই।

কংশ, মগড়া, সোমেশ্বরী, উব্দাখালী ও ধনু নদীর দুই পাড়ের কৃষকরা জানান, তারা আগে নদীর পানি দিয়ে সারা বছর ঘর গৃহস্থালির কাজ করত। বোরো ফসলের মাঠে সেচ দেওয়ার কোনো চিন্তা করতে হতো না। এখন আর জমিতে সেচ দেওয়ার মতো পানি নেই। তারা আরো জানান, এলাকার জেলেরা নদী থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু নদীতে পানি না থাকায় তারা তা করতে পারছেন না।  নদী শুকিয়ে যাওয়াতে এখন সেখানে ধান লাগানো হচ্ছে। স্থানীয় অহিদুর রহমান বলেন, নদী রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন প্রধান প্রধান নদীগুলো দ্রুত খনন করা। নদীর উত্স মুখগুলো খনন করলে সুফল পাওয়া যাবে এবং  সারা বছর নদীতে পানি থাকবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান জানান, কৃষি কাজে সেচের পানি ধরে রাখার লক্ষ্যে গত অর্থ বছরে ১০টি খাল খনন করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে আরো পাঁচটি খাল খনন করা হচ্ছে। আর বড় বড়গুলো খনন করতে হলে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় তা করবে। তবে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার সোয়াইর নদীসহ তিনটি নদী ও ১২টি খাল খননের জন্য ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকার বরাদ্দ না আসায় খনন প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। 

জেলার নদনদী খননের বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, নদীর নাব্যরক্ষা ও সারা বছর সেচের পানি ধরে রাখার লক্ষ্যে যেসব নদনদী খননের প্রয়োজন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা কার্যকর করা হবে। এজন্য জেলা নদীরক্ষা কমিটির সভায় আলোচনা করে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নদনদী আর যাতে কেউ দখল করতে না পারে এবং অপরিকল্পিতভাবে কোনো সেতু যাতে আর না হয়, সেদিকটাও দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।