যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যের লুইভিল শহরের একটি ব্যাংকে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। সোমবারের (১০ এপ্রিল) এই গুলির ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ জন। গুলির ঘটনায় দুজন পুলিশ অফিসারসহ মোট আটজন আহত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। হামলাকারী ২৫ বছর বয়সী কোনর স্টার্জেন। তিনি শহরতলীতে অবস্থিত ওল্ড ন্যাশনাল ব্যাংক নামের ওই ব্যাকটিতে কাজ করতেন। তিনি কী কারণে এই হামলা চালিয়েছেন সে বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা পায়নি পুলিশ।
হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেখানকার 'ইন্টেরিম' পুলিশ চিফ জ্যাকুলিন গুয়িন ভিলরয়িল। পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে হামলাকারী তার হাতের রাইফেল দিয়ে গুলি চালায়। গুলি চালানোর এই ঘটনা তিনি লাইভ প্রচারও করেন।
ইন্টেরিম পুলিশ চিফ জ্যাকুলিন গুয়িন ভিলরয়িল জানান, আহত এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ আরো দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের মাথায় গুলি লেগেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গুলির ঘটনার পরপরই সেখানে কর্মরত কয়েকজন ব্যাংকের ভল্টে আশ্রয় নেন এবং পুলিশকে খবর দেন।
ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশার জানান, ঘটনায় নিহত কয়েকজন তার পূর্ব পরিচিত। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গুলিতে নিহত ৬৩ বছরের টমি এলিয়টের নাম উল্লেখ করে জানান, টমি তার খুব কাছের বন্ধু।
টমি তাকে আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে এবং গভর্নর হতে সহযোগিতা করেছিলেন বলে স্মরণ করেন তিনি। তিনি বলেন, 'এই ঘটনায় আমার খুব কাছের এক বন্ধু মারা গেছেন। আমার আরেক বন্ধু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। আমি আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।'
এদিকে কেনটাকির মেয়র ক্রেইগ গ্রিনবার্গ বলেন, 'আমরা বন্দুক হামলার এমন ঘটনা এখানে এবং আমাদের রাজ্যের আশেপাশে যেন আর না হয় তা নিশ্চিত করতে দলবদ্ধভাবে কাজ করবো।'
উল্লেখ্য, গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, লুইভিল শুটিংয়ের এই ঘটনাদিসহ যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর মোট ১৪৬টি বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় গড়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। লুইভিল শুটিংয়ের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে ন্যাশভিল শহরের একটি স্কুলে বন্দুক হামলায় তিন শিশুসহ ছয় জন নিহত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে দেশটিতে বন্দুক হামলার ঘটনা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। যদিও বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিরোধিতা করছে রিপাবলিকানরা। লুইভিলের এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই টুইট বার্তায় বলেন, 'এভাবে নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে অনেক আমেরিকান তাদের জীবন দিয়ে মূল্য দিচ্ছে।'