দুস্থ নারীর তালিকায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নাম!

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির তালিকায় দুস্থ নারীদের পরিবর্তে চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়ের স্ত্রী এবং বিত্তবানদের কার্ড প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের একাধিক অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারের এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।  

জানা গেছে, উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ২০২৩-২৫ সালের জন্য ৩ হাজার ৪৪৭ জনকে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অসচ্ছল, ভূমিহীন, অসহায় ও দুস্থ নারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যানের ও তার ভাইয়ের স্ত্রী, পাকা বাড়ির মালিক, জায়গা-জমি রয়েছে এমন নারীদের সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

এই বাড়ির মালিকের নাম এসেছে সুস্থদের তালিকায়। ছবি: ইত্তেফাক

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদখানা ইউনিয়নের উপকারভোগীর তালিকায় নাম রয়েছে প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী মোছা. মনিফা বেগমের। একই তালিকায় নাম রয়েছে ওই প্যানেল চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আলমগীর আলীর স্ত্রী আকতারা বেগমের। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আলমগীর আলীর তিনতলা বাড়ি নির্মাণাধীন, রয়েছে জমি-জমা। 

প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কীভাবে তাদের নাম তালিকায় এসেছে জানি না। ইউএনও স্যারের কাছে আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর নাম থাকার কথা জানিয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান হাফিজার রহমান হাফি মারা যাওয়ার পর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেন। ক্ষমতা পেয়ে নিজের স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর নাম তালিকায় রেখেছেন।

উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোসাম্মৎ সাবিকুন্নাহার বলেন, ইউনিয়ন কমিটি থেকে তালিকা আসার পর উপজেলা কমিটি সেটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়। প্যানেল চেয়ারম্যানের স্ত্রী, তার ভাইয়ের স্ত্রী ও ধনাঢ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় এসে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।