বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, মাদক একটি সার্বজনীন সমস্যা, এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশ দেড়শ বছর পুরনো। তারা সবসময় তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে আসছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে দায়িত্ব দেবেন, আমরা সেই দায়িত্ব পালন করব।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রংপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে মাল্টিপারপাস শেডের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
পুলিশ প্রধান বলেন, বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে চারুকলায় একটি উড়ো চিঠি এসেছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী এ নিয়ে কোনো আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরপরও আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগি না। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা আশা করছি পহেলা বৈশাখে উৎসবমুখর পরিবেশে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ অন্যান্য অনুষ্ঠানাদিতে অতীতের মতো মানুষ অংশগ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জঙ্গী, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আমরা সেই আলোকে দায়িত্ব পালন করে চলেছি। এক সময় দেশে সন্ত্রাসের জনপদ গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন এলাকায়। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছিল। সারাদেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির কারণে সর্বস্থানে মানুষ নিরাপদ।
এছাড়া দেশ জঙ্গীবাদ দমনে সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা দেশে জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আগেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তাই দেশে জঙ্গীবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গীবাদের সঙ্গে অন্য কোনো দূরভিসন্ধিমূলক কার্যক্রমে কারো চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মাদক নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আবদুল আলীম মাহমুদ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নুরে আলম মিনা, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরীসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।
এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন পুলিশ অফিসার্স মেস, পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন শেষে রংপুর পুলিশ লাইন্সে বৃক্ষরোপন ও পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এরপর তিনি পুলিশ লাইন্স স্কুল অডিটরিয়ামে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতিবিনিময় করেন।