আজ শুক্রবার পহেলা বৈশাখ, সূর্যের নতুন আলোর সঙ্গে এসেছে নতুন বছর, বঙ্গাব্দ ১৪৩০। পুরোনো সব জঞ্জালকে ধুয়েমুছে ফেলে ভালো কিছু করার প্রত্যয়ে বরণ করা হচ্ছে বাংলা নতুন বছরকে। বর্ষবরণ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসছে বৈশাখী মেলা। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
বিরামপুর (দিনাজপুর): উপজেলার মির্জাপুরে ৩১৮ বছরের পুরোনো জামলেশ্বর মণ্ডপ মেলা বসছে আজ। জানা গেছে, এই এলাকার তৎকালীন রাজা ভৈরব চন্দ্র প্রজাদের কাছ থেকে বার্ষিক খাজনা আদায় উপলক্ষে চৈত্র মাসের শেষ দিন নির্ধারণ করে দেন। প্রতি বছর এই দিনে খাজনা দিতে বিপুলসংখ্যক প্রজার সমাগম ঘটত। রাজা ভৈরব চন্দ্র বাংলা ১১১১ সন থেকে মির্জাপুরে চৈত্রসংক্রান্তির পূজা-অর্চনা ও মেলার সূচনা করেন। সেই থেকে প্রতি বছর এখানে হরেক রকমের মিষ্টি-মিষ্টান্ন, মৌসুমি ফলমূল, মাটির তৈজসপত্র, বাঁশ বেতের আসবাবপত্র, লোহার সামগ্রী ও বিভিন্ন রকমের গৃহস্থালি সামগ্রী নিয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা আসেন এই মেলায়।
মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা যথাযথভাবে চলবে এবং মেলা উপলক্ষে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ওসি সুমন কুমার মহন্ত জানান, ঐতিহ্যবাহী এই মেলার নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার জানান, প্রাচীন এই মেলার কেন্দ্রবিন্দুতে শিবমন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি তীর্থস্থান।
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) : বাজিতপুর বাজার বাঁশ মহলে বসছে দেড় শতাধিক বছর ধরে চলে আসা বৈশাখী মেলা ও ঘুড়ি কাটাকাটি প্রতিযোগিতা। মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হচ্ছে ঘুড়ি উড়ানো উৎসব।
জানা যায়, অতীতে ঢাকা, চট্টগ্রাম এমনকি কলকাতা থেকে শৌখিন ব্যক্তিরা ঘুড়ি কাটাকাটিতে অংশগ্রহণ করতে আসতেন। রং-বেরঙের ঘুড়ি তৈরি, নাটাই তৈরি এবং এক মাস আগেই সুতায় মাঞ্জা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে যেত। মেলায় গ্রামীণ ও লোকজন নানা জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে সমাহার ঘটে পাকা গাব, বেত বিচি।
মেলায় এসব ছাড়া মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, সানকি, সরা, পুতুল, চুলা, ঘোড়া-হাতি, সিংহ, বাঘ, হরিণ, গণ্ডার, ষাঁড়, ফুলের টব, মুড়ি-মুড়কি, খই, বিন্নি, বাতাসা, কদমা, তিল্লা, দা-খন্তা, গাইল, ছেওট, কাঠের ও লোহার দ্রব্যাদি, বাঁশি, জল চৌকিসহ নানাবিধ দ্রব্য পাওয়া যায়। মেলাটিকে ঘিরে মানুষের মধ্যে বিশেষ এক আনন্দ অনুভূতি কাজ করে।