সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় নিয়ে কালের গর্ভে বিলীন হলো বঙ্গাব্দ ১৪২৯। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) ছিল বিদায়ি বাংলা বছরের শেষ দিন চৈত্রসংক্রান্তি। বসন্তের শেষ দিনটি ঘিরে রাজধানীতে ছিল বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা। গানে, যন্ত্রসংগীতে, নৃত্যে সাজানো ছিল সেসব আয়োজন।
এদিন সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে যৌথভাবে চৈত্রসংক্রান্তি উদযাপনের আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ও শিল্পকলা একাডেমি। নাচ, গান, যন্ত্রসংগীতের কথনে সাজানো ছিল এ আয়োজন। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে বর্ণিল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ভেসে বেড়ায় সরোদের সুর। শাস্ত্রীয় ধারার পরিবেশনাটি উপস্থাপন করেন ইলমা ফুলঝুরি ও ইসরি ফুলঝুরি। ছিল অর্কেস্ট্রার সুর মূর্ছনা। পরিবেশনাটি উপস্থাপন করে শিল্পকলা একাডেমির অর্কেস্ট্রা দল। এরপর বর্ষ বিদায়ের সূচনা বক্তব্য রাখবেন নাট্যজন আতাউর রহমান।
কথন শেষে পরিবেশিত হয়েছে নাটকের গানের কম্পোজিশন পরিবেশনা। এ পর্বে সোনাই মাধব নাটকের গান পরিবেশন করে লোক নাট্যদলের শিল্পীরা। মলুয়া নাটকের গান শোনান মেটোপথের শিল্পীরা। গুণজান বিবির পালা থেকে পরিবেশন করেন পদাতিক নাট্য সংসদ। এরপর বর্ষ বিদায়ের বক্তব্য রাখেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার। নৃত্য-গীতে সজ্জিত আয়োজনে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবিময় পরিবেশনা ধামাইল নৃত্য। ‘বাইজ্জো নারে শ্যামের বাঁশি’ শীর্ষক গানের সুরে পুরাতন বর্ষকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে আহ্বানের বন্দনায় পরিবেশনাটি উপস্থাপন করের একাডেমির নৃত্যদল।
নাচ শেষে পুনরায় উপস্থাপিত হয়েছে নাটকের গানের কম্পোজিশন। মহাজনের নাও নাটকের গান থেকে পরিবেশনা উপস্থাপন করে সুবচন নাট্য সংসদ। চম্পাবতী ও আয়না বিবির পালা নাটক থেকে পরিবেশনা উপস্থাপন করে শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র ও নাট্যধারা। গান শেষে বর্ষ বিদায়ের সমাপনী বক্তব্য দেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এরপর ‘বিপুল তরঙ্গ রে’ ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে পরিবেশিত হয় সমবেত নাচ। সব শেষে অনুষ্ঠিত হবে লটারি ড্র।
এছাড়া এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুষদের বকুলতলায় ছিল চৈত্রসংক্রান্তির আনুষ্ঠানিকতা। একক ও দলীয় নাচের সঙ্গে সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয় অনুষদের শিক্ষার্থীরা। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে লোকগানের আয়োজন করে উন্মুক্ত লাইব্রেরি।