মাশরাফিদের ১ রানের জয়ের দিনে জিতেছে আবাহনীও

টানা ৮ ম্যাচে জয়ের পর গত ১১ এপ্রিল প্রথম হারের স্বাদ পায় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে তাদেরকে প্রথম হারের স্বাদ দেয় শেখ জামাল ধানমন্ডি। তবে সেই হারের তিক্ততাকে পেছনে আবার জয়ের ধারায় ফিরেছে আবাহনী। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৯ রানে হারিয়েছে আবাহনী। 

এদিকে,গতকাল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটা উপহার দিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ ও ঢাকা লিওপার্ডস। মিরপুরে দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাশরাফি বিন মর্তুজার লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ পেয়েছে ১ রানের নাটকীয় জয়। দিনের অন্য ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমন্ডি।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৮ রান করে মাশরাফির রূপগঞ্জ। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৭০ বলে ৫২, সাব্বির রহমান ৬৬ বলে ৫৪, চিরাগ জানি ৫০ বলে অপরাজিত ৫৯ ও শেষ দিকে মক্তার আলির ১০ বলে অপরাজিত ২৫ রানের ইনিংসের সুবাদে ২৬৮ রানের পুঁজি পায় রুপগঞ্জ। জবাবে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান উমর আমিনের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ৬ উইকেট হারিয়ে ২৬৭ রান করতে সক্ষম হয় ঢাকা লিওপার্ডস। ফলে ১ রানের নাটকীয় জয় পায় রূপগঞ্জ। উমর আমিন  ১৩৩ বলে অপরাজিত ১২৮ ও সাব্বির হোসেন ৯১ বলে ৬৪ রান করেন। ম্যাচ-সেরার পুরস্কার পেয়েছেন রূপগঞ্জের চিরাগ জানি।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ঠিক ৫০ ওভারে ২৬৭ রান করে অলআউট হয় আবাহনী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার মোহাম্মদ নাইম। এছাড়া অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৬৯ বলে ৫২ রান করেন। জবাবে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৮ রান করতে সক্ষম হয়। ওপেনার আজমির আহমেদ ৬৩ বলে ৬০, অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব ৭১ বলে অপরাজিত ৫৮ ও ইলিয়াস সানির ৮০ বলে ৫৭ রানের ইনিংসের পরও ৯ রানের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় অগ্রণী ব্যাংককে। আবাহনীর জয়ে ম্যাচ-সেরা মোহাম্মদ নাইম।

সাভারে বিকেএসপির তিন নম্বর গ্রাউন্ডে প্রথমে ব্যাট করে ৪৯.১ ওভারে ২৪৪ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। দলের পক্ষে ৭৫ বলে সর্বোচ্চ ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন মুশফিকুর রহিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুর্দান্ত বোলিং করা এবাদত হোসেন ৪১ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। তবে এবাদত নন, শেখ জামাল ধানমন্ডির গতকালের জয়ের নায়ক জাতীয় দলের আরেক তরুণ তুর্কি তাওহিদ হূদয়। লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১১৮ বলে অপরাজিত ৯৮ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ৩টি ছক্কা ও ৬ চারে সাজানো তার ঐ ইনিংস এবং ওপেনার সাইফ হাসানের ৭০ রানের ইনিংসে চড়ে ৪৬.৪ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়েই শেখ জামাল পৌঁছে যায় জয়ের লক্ষ্যে (২৪৮/৩)। তাওহিদ হূদয়ই পকেটে পুরেছেন ম্যাচ-সেরার পুরস্কার।