কাউন্টারে টিকিট নেই। ট্রেনে যতই ভিড় থাকুক পঞ্চগড় থেকে ঢাকার যেকোনো শ্রেণির টিকিট যাত্রীকে দিতে পারবে তানু। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই থেকে তিনগুণ টাকা হাতিয়ে আদতে প্রতারণায় লিপ্ত হচ্ছেন স্টেশনের নিকটবর্তী এই বাসিন্দা তাজমিনুল ইসলাম তানু। বিগত পাঁচ বছর ধরে তার এই প্রতারণায় অতিষ্ঠ স্থানীয় জনগণ।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রথমে যাত্রীদের পছন্দ অনুযায়ী টিকিট দেওয়ার কথা বলে দুই থেকে তিনগুণ টাকা নিলেও পরে সে অনুযায়ী টিকিট দিতে ব্যর্থ হয় এই কালোবাজারী। কিন্তু তার চাহিদামত টিকিটের মূল্য পরিশোধ করতে অপারগতা প্রকাশ করলেই খারাপ ব্যবহার করে এবং টিকিট না নিলে এলাকা ছাড়তে না দেওয়ার হুমকি দিয়ে থাকেন এই তানু।
ভুক্তভোগী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ১২ জন পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় আসার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তির কাছে টিকিটের সাহায্য চাই। এমনকী আমরা পছন্দের আসন তালিকা তাকে দিই। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত আমাদের কিছু না জানিয়ে তার ইচ্ছেমতো ১০টি টিকিট কাটে এবং সেগুলোর জন্য আমাদের কাছ থেকে ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। যদিও সেই টিকিটের মূল ছিল ৯ হাজার। পরবর্তীতে আমরা সেই টিকিট নিতে অস্বীকার জানালে তিনি আমাদের হুমকি দেন। এমনকি জানান টাকা না দিয়ে আমরা পঞ্চগড় ছেড়ে ঢাকা আসতে পারব না। এমন বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হয়ে আমরা টাকা দিতে বাধ্য হই।’
পঞ্চগড়ের ভজনপুর এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী কল্লোল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে স্টেশন অনেকটা দূরের পথ। তাই তানু ভাইকে দিয়ে ঢাকায় গেলে টিকিট সংগ্রহ করাতাম। কিন্তু পরে দেখলাম টিকিটের মূল ভাড়ার চেয়ে সবসময় বেশি টাকা তিনি নেন। আর সেটি প্রায় দ্বিগুণ। পরবর্তীতে এই কারণে টিকিট নেওয়া বন্ধ করে দিই।’
তানুর এইসব কার্যক্রম অনেকদিন ধরেই চলছে জানিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, ‘তানুর টিকিট নিয়ে মানুষকে হয়রানির কথা অনেকদিন ধরেই শুনছি। তার বাসা স্টেশনের পাশে হওয়ায় কম সময়ে টিকিট সে সংগ্রহ করতে পারে। আর সেই টিকিট দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে সবার কাছে বিক্রি করে। পঞ্চগড়ের অনেকেই তার এই হয়রানির শিকার। যেহেতু স্টেশন থেকে অনেকে বাসা বেশ দূরে ও ভেতরে, আর গ্রামের সবাই অনলাইনের ব্যাপারেও সচেতন নয় তাই সহজে টিকিট পাওয়ার জন্য তানুর দ্বারস্থ হন অনেকে। সেই সুযোগে নিজের প্রতারণা ব্যবসা চালাচ্ছে তানু।’
অভিযোগের বিষয়ে তানু বলেন, ‘আমার কাজ (টিকিট বিক্রি) আমি করি। আপনাদের ভালো না লাগলে মামলা কইরা দেন। ডিসি-ইউএনওদের হাত করেই কাজ করি।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নোবেল বলেন, ‘তানু নামে কাউকে চিনি না। তবে অভিযোগ যেহেতু এসেছে, আমি খোঁজ নিয়ে দেখব। অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু থাকলে অবশ্যই সমাধান করা হবে।’