g ইকবাল খন্দকার
পরীক্ষার তোড়জোর
2
—বছরের এই সিজনটারে আপনে পরীক্ষার সিজন বইলা আখ্যা দিতে পারেন।
—না, পারি না। কারণ, খুব ব্যস্ত আছি। বাচ্চার পরীক্ষা চলতাছে তো!
2
—বার্ষিক পরীক্ষাও এই সময় হয়, ভর্তি পরীক্ষাও এই সময় হয়। কাকতালীয় না?
—‘কাক’তালীয় মানে? পরীক্ষার আলোচনার মধ্যে কাউয়া টাইনা আনতেছেন কেন?
2
—পরীক্ষা মানেই কিন্তু বাচ্চাদের উপর অতিরিক্ত চাপ।
—বাচ্চার মায়েদের উপরও। জানা গেছে, অনেক মায়েরই নাকি হিন্দি সিরিয়াল মিস হয়ে যাচ্ছে।
2
—পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়া কিছু বলেন।
—প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিস্টেমটা আরও সহজ করা হোক। এত দৌড়াদৌড়ি জানে সয় নাকি!
2
—ভর্তি পরীক্ষা বাদ দিয়া সব ইশকুলে লটারি সিস্টেম চালু করলে কেমন হয়?
—লটারি সিস্টেম নতুন কিছু না। এইটা আগেই ছিল। নায়ক জসিম বহুবার লটারি জিতছে।
2
—কী আর কমু। আজকাল সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ফাঁস হয়।
—জি না, রক্তপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় না।
সিট সংক্রান্ত
—তুই তো পুলিশের হাতে ধরা খাইয়া যাবি।
—ক্যান?
—কারণ, তুই একটা বেআইনি কাজ করতাছস।
—বেআইনি কাজ!
—হ। বিলকুল বেআইনি কাজ।
—কী রকম?
—সিট নিয়া টানাটানি চলছে এইটা সবাই জানে।
—হ, আমিও জানি। কারণ, ইশকুলেও সিট সংকট, আবার নির্বাচনেও সিট সংকট।
—এই অবস্থায় তুই যে সিট কিনতে চাইতাছস, এইটা অন্যায় না?
—আমি সিট কিনতে চাইতাছি! কন কী! কখন চাইলাম?
—এই যে একটু আগে কইলি ‘সিট কিনি’।
—আরে বাপুরে, ‘সিট কিনি’ বলি নাই। বলছি ‘ছিটকিনি’।
নির্বাচন বনাম অতিথি পাখি
আপনি যদি সামাজিক প্রাণী হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনার পরিচয় থাকার কথা ‘অতিথি’ শব্দটার সঙ্গে। কেন পরিচয় থাকার কথা? কারণ, সপ্তাহে না হোক, মাসে হলেও দুয়েকজন পাবলিক আপনার বাসায় বেড়াতে আসবেই। আর যারা কারণ ছাড়াই বেড়াতে আসে, হাতে করে ফল বা মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে আসতেও পারে আবার নাও পারে; তারাই হচ্ছে অতিথি। তবে অতিথি পাখির বিষয়টা একেবারেই ভিন্ন। অতিথি পাখি সপ্তাহেও আসে না, মাসেও না। অতিথি পাখি আসে বছরে একবার। তাও লোকাল না। সাইবেরিয়া থেকে আসা হয় তাদের। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাত্ করে অতিথি পাখির কথা কেন তুললাম। এখন শীতকাল, এই জন্য? জি না, এই জন্য না। অতিথি পাখির কথা তুলেছি এই জন্য, যেহেতু এখন নির্বাচনের সিজন। প্রশ্ন আরেকটা সামনে চলে এলো। নির্বাচনের সিজনের সঙ্গে অতিথি পাখির কী সম্পর্ক? আরে আছে, আছে। অতিশয় সুসম্পর্ক আছে। অতিথি পাখিরা আসে বছরে এক বার। তাও এই সময়টায়। নির্বাচনের প্রার্থীরাও বছরের এই সময়টায়ই আসেন, তবে বছরে আসেন না কিন্তু। পাঁচ বছর পরপর আসেন। তারমানে তারা নরমাল অতিথি না। নরমাল অতিথির চেয়ে বিরাট কিছু। চিন্তা করেন বিষয়টা। যারা সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসে, তারাও প্রতিবছর একবার অন্তত আসতে পারে। অথচ আমাদের এই অতিথিরা ঢাকায় থাকেন, তবু যান পাঁচ বছরে একবার। কখন যান? যখন ভোটের সময় হয়। তথাকথিত জনসংযোগের নামে তারা জ্বালাতন করে মানুষকে। আপনি হয়তো বাজার থেকে ফিরছেন। দুই হাতেই ব্যাগ। হঠাত্ পড়ে গেলেন কোনো নির্বাচনী প্রার্থীর সামনে। ব্যস, প্রার্থী সাহেব ভোটের আশায় আপনার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন। দুই হাতে ব্যাগ নিয়ে কীভাবে আপনি তার সঙ্গে হ্যান্ডশেকটা করবেন, এটা আপনার জন্য হয়ে দাঁড়ায় বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। তবে আপনি যেহেতু পাঁচবছর পরপরই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যাচ্ছেন, অতএব পরিস্থিতি সামাল দিতে আপনার সমস্যা হয় না বা হওয়ার কথা না। সমস্যা এখানেই শেষ না। আপনি পাটকাঠির মতো মানুষ। একটু বাতাস ছুটলে ডানে পড়ে যান, বামে হেলে যান। অথচ এই সিজনে বিশাল বিশাল ভুঁড়ির অধিকারী অতিথি পাখিরা মরিয়া হয়ে ওঠে আপনার সঙ্গে কোলাকুলি করার জন্য। তাদের ভুঁড়ির চাপে আপনার অবস্থা কখনো হয় কেরোসিন, কখনো ডিজেল।
আমার এক বড়ভাই বললেন, ‘আমি মনে করি নির্বাচনটা শীতকালে না হয়ে গরমকালে হওয়া উচিত।’
আমি বললাম, ‘কেন বলেন তো!’
বড়ভাই বললেন, ‘কেন আবার। এই সিজনে নির্বাচন হওয়ার কারণে এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ অতিথি পাখি ঢোকে। আর তারা সালাম তো দিতেই থাকে, সমানে জিজ্ঞেস করতে থাকে কেমন আছি, কী দিয়া খাইছি, মানে কুশল বিনিময় আরকি। তো তাদের সালামের জবাব দিতে দিতে আর কুশল বিনিময়ের সঙ্গে তাল মিলাতে মিলাতে আপনার অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এই জন্য, যেহেতু এই সিজনটায় ঠোঁট ফাটে। দুয়েকটা ফাটল জিহ্বায়ও দেখা দেয়। অন্য সিজনের যেহেতু ফাটাফাটির কারবারটা নাই, অতএব নির্বাচনটাও অন্য সিজনে হইলে ঠোঁট-জিহ্বার উপর দিয়ে এত ধকল যাইত না আরকি।’
আমার আরেক বড়ভাই বললেন বিপরীত কথা। তার মতে, নির্বাচন গরমকালে না হয়ে শীতকালে যে হচ্ছে, এরচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত আর কিছুই হতে পারে না। কেন হতে পারে না? কারণ, অতিথি পাখিরা আমপাবলিকের সঙ্গে যে হারে কোলাকুলি করেন, নির্বাচন গরমকালে হলে লেটাপেটা অবস্থা হয়ে যেত ঘামের কারণে। শীত মানেই ঘামহীন কোলাকুলি। কী মজা! কী টেস্ট!
প্রচারণা নাকি প্রতারণা
2
—নির্বাচনী প্রচারণা কিন্তু চলছে।
—চলবই তো। নির্বাচনী প্রচারণা তো আর লোকাল বাস না যে জ্যামে আটকায়া থাকব।
2
—প্রচারণার সময় কতজন যে কত প্রতিশ্রুতি দিতাছে!
—প্রতিশ্রুতি দিলেও নিয়েন না। তবে পান-বিস্কুট দিলে নিয়েন।
2
—প্রচারণার সঙ্গে প্রতিশ্রুতির সম্পর্কটা অত্যন্ত পুরনো।
—কন কী! বেশি পুরানা হওয়ার কারণে আবার ডেট এক্সপায়ারি হইয়া যায় নাই তো?
2
—নির্বাচনী প্রচারণায় মাইক ব্যবহার করলে কিন্তু শব্দদূষণ হয়।
—শব্দদূষণ হোক। বাক্যদূষণ না হইলেই হইল।
2
—নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটারদেরকে নাকি নগদ টাকা দিচ্ছে কেউ কেউ? কথাটা কি ঠিক?
—যেহেতু টাকা দেওয়ার কথা শুনছেন, অতএব ঠিকই হওয়ার কথা। ডলার বা দিরহাম দেওয়া কথা শুনলে ঠিক ছিল না।
2
—প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পোস্টার।
—খালি পোস্টার না, আজকাল পোস্টও ব্যবহার হয়। ফেবু পোস্ট।
চা স্টলে কিছুক্ষণ
—অ্যাই, তোমারে আমি কতদিন কইছি?
—কী যেন?
—কাপের কথা।
—কোন কাপ? বিশ্বকাপ?
—ইয়ার্কি করো আমার সাথে?
—ইয়ার্কি করমু ক্যান? আপনে কি আমার নানা লাগেন?
—অ্যাই চুপ করো! তোমারে আমি ম্যালাদিন কইছি না আমারে টুডাফাডা কাপে চা দিবা না?
—তা কইছেন।
—তাও আমারে এই আধাভাঙা কাপে চা ক্যান দিলা?
—কী করমু কন! সিজনটাই খারাপ।
—সিজন খারাপ মানে?
—না মানে এখন চায়ের কাপে ঝড় ওঠার সিজন তো! টুডাফাডা একটু থাকতেই পারে। আইচ্ছা, লোহার কাপ কি পাওয়া যায়? দাম কেমন?