ঈদুল ফিতরে রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে পুরোনো বাস মেরামতের হিড়িক পড়েছে। রমজানের শুরু থেকেই লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলোকে প্রস্তুতের কাজ শুরু করে বাসমালিকরা। কেননা দক্ষিণাঞ্চলের সড়কপথে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় দ্বিগুণ হবে বলে মনে করছেন তারা। এ কারণে বাড়তি লাভের এ সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ বাসমালিকরা। সে জন্য ফিটনেস বিহীন লক্কড়ঝক্কড় মার্কা গাড়িগুলোও প্রস্তুত করা হচ্ছে ঈদ সার্ভিসের জন্য। পুরোনো বাসের বডিতে রং দিয়ে যাত্রীদের আকর্ষণের জন্য নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে ব্যস্ততার কমতি নেই ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রিদেরও।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে দৈনিক লাখ লাখ মানুষ সড়কপথে যাতায়াত করে থাকে। পদ্মা সেতু দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে যাতায়াত করা যায় বলে নৌরুট ও আকাশপথের যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সড়কপথে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশাল থেকে যে কোনো পরিবহনে স্বল্প ভাড়ায় এবং স্বল্প সময়ে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির বিলাসবহুল বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় উঠতে না পেরে ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের এক সময়ের ব্যস্ততম নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। সর্বশেষ ৫০ জনেরও কম যাত্রী হওয়ায় গত ২৭ মার্চ বিকেল থেকে ঝালকাঠি-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ। তবে লঞ্চমালিকরা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নৌ-রুটে যাত্রীদের চাপ বাড়লে লঞ্চ চলবে, ঈদের পর আবারও রুটটি বন্ধ রাখা হবে। এর আগে ঢাকা-টরকী রুটসহ কয়েকটি নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে যাত্রী সংকটের কারণে ঢাকা-বরিশাল আকাশপথেও কয়েক দফায় বিমান চলাচলের শিডিউল পরিবর্তন করা হয়।
নগরীর নথুল্লাবাদ তানভির ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মিস্ত্রি মো. শাহিন বলেন, পরিবহনের ইঞ্জিনের কাজ, রঙের কাজ এবং সিট পালটানোর কাজ চলছে। যে কারণে আমাদের দিনরাত কাজ করতে হচ্ছে। ঈদের কারণে এখন কাজের চাপ বেশি।
অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার করা অধিকাংশ পরিবহনের ফিটনেস নেই। পাশাপাশি অদক্ষ চালক দিয়ে এসব পরিবহন ঈদ উৎসবে যাত্রী পরিবহনের জন্য যুক্ত করা হলে বরিশাল থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত সরু মহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ফিটনেস না থাকার বিষয়টি মানতে নারাজ বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার দে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বরিশালে কোনো ধরনের ফিটনেসবিহীন গাড়ি নেই। আমাদের প্রায় সব বাসই নতুন বলা যায়। আর অদক্ষ চালক কিছু থাকতে পারে। তাদেরকে লাইসেন্স তো আর আমরা দেই না। এটি সম্পূর্ণ বিআরটিএর দায়িত্ব। তারাই ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করে থাকে।’
এ বিষয়ে বরিশাল বিআরটিএর পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, সড়কে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া উৎসবের সুযোগে কেউ ফিটনেস বিহীন বাস নামানোর পাঁয়তারা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।