সুদানে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৫

সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। আহত হয়েছে আরও পাঁচ শতাশিক মানুষ। সোমবার (১৭ এপ্রিল) দেশটির চিকিৎসকদের ইউনিয়নের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

গতকাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছিল, সুদানে সংঘর্ষে ১ হাজার ১২৬ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

গত শনিবার দেশটির সামরিক নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের প্রতি অনুগত সেনাবাহিনীর সঙ্গে মোহামেদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আধা-সামরিক সংগঠন র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘাত মূলত রাজধানী খার্তুমে সীমাবদ্ধ আছে। এখানেই সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্ট ভবন।প্রত্যক্ষদর্শীরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, আজ ভোরে মর্টার ও কামানের গোলার শব্দ শোনা গেছে। ফজরের নামাজের পর হামলার তীব্রতা আরও বেড়ে যায়।

খার্তুম বিমানবন্দর ও সুদানের সেনাবাহিনীর ব্যারাকগুলোয় যুদ্ধবিমান হামলার তীব্রতা বেড়েছে বলেও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার দিয়ে বিমানবন্দরে হামলা চালানো হচ্ছে। আরেকটি ক্লিপে সেনাবাহিনীর জেনারেল কমান্ড ভবনের ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। এই ভবনটিতে গতকাল আগুনে জ্বলছিল।

sudan new

সপ্তাহান্তে রাজধানী থেকে শত শত মাইল দূরে পোর্ট সুদান ও পশ্চিম দারফুর অঞ্চলেও সংঘর্ষের সংবাদ পাওয়া গেছে।

সরকার নিয়ন্ত্রিত জাতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ আছে। টিভির কর্মীরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, টেলিভিশন কেন্দ্রটি এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে।

সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশ ও সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় আছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ৩ কর্মকর্তা শনিবারের সংঘাতে প্রাণ হারালে সংস্থাটি সুদানে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

দারফুরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থার অবকাঠামোগুলোয় লুটের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির উড়োজাহাজ খার্তুমে গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গতকাল বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি জানায়, এ ঘটনার কারণে দেশের ভেতর কর্মী ও ত্রাণ আনা-নেওয়ার কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

২০২১ সালের অক্টোবরে একটি অভ্যুত্থানের পর থেকে সুদান পরিচালনা করছেন সামরিক জেনারেলরা। যুদ্ধটি ডি ফ্যাক্টো নেতা জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের অনুগত সেনা ইউনিট এবং সুদানের ডেপুটি লিডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বে হেমেদতি নামে পরিচিত আরএসএফ-এর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।