যথাযথ পবিত্রতা, মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা লাইলাতুল কদর পালন করেছেন। গতকাল ২৬ রমজান দিবাগত রাত ছিল লাইলাতুল কদর। হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ও পূর্ণময় এই রজনীতে ইবাদত-বন্দেগির জন্য ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মসজিদসমূহে জমায়েত হতে শুরু করেন। মুসলিম নারীরা ঘরে ঘরে এই রাতের ইবাদতে মশগুল থাকেন।
মুসলমানদের জন্য মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমত এবং অনুগ্রহের রজনী হচ্ছে লাইলাতুল কদর। রমজান মাসের এই রজনীতেই মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি পবিত্র কুরআন নাজিল শুরু হয়েছিল। এই রাতের ইবাদত-বন্দেগিকে নাজাতের অসিলা এবং হাজার মাসের ইবাদতের চাইতে উত্তম বলে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে।
নবি করিম (স.) এই রাতে নিজে ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং তার সাহাবিদেরও বেশি বেশি ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। রমজান মাসের ২১ থেকে ২৭ তারিখের মধ্যে বেজোড় সংখ্যার রাতেই পবিত্র লাইলাতুল কদর। তবে ২৭ রমজান, অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতকেই কদরের রাত হিসেবে ধরে নিয়ে থাকেন কেউ কেউ।
রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি জমায়েত হয়ে রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করেন। গত রাতে সব মসজিদে খতমে তারাবি শেষ হয়েছে। রাতভর ইবাদত-বন্দেগির মধ্যে ছিল কুরআনখানি, নামাজ, জিকির, দান-খয়রাত ও দোয়া। রোজাদার মুসলমানগণ ক্ষমার শেষ সুযোগ মনে করে এই রাতে মোনাজাতে আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
দেশের প্রতিটি মসজিদে ও মুসলিমদের ঘরে ঘরে এশা ও তারাবির নামাজ শেষে শুরু হয় কদরের বিশেষ ইবাদত-বন্দেগি। ফজরের নামাজ শেষে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে চোখের পানিতে আল্লাহর অনুগ্রহ কামনার মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই পবিত্র রজনী পালন করেন। বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদেই আখেরি মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য শান্তি কামনা করা হয়।