সিলেট-আখাউড়া সেকশন

রেলের জমি অবৈধভাবে বেচা-কেনার হিড়িক

সিলেট-আখাউড়া রেলওয়ে সেকশনের শমশেরনগর স্টেশনের পার্শ্ববর্তী রেলের ভূমি অবৈধভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের হিড়িক পড়েছে। কৃষি বন্দোবস্তু নেওয়া ভূমি বিক্রি ও বিধি লঙ্ঘন করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মিত হচ্ছে। এছাড়াও মৌলভীবাজার অঞ্চলের ১১টি স্টেশনে রেলের দুই পার্শ্বে কৃষি ভূমিতে বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হচ্ছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এই ভূমি বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বেহাত হচ্ছে কৃষিজমি এবং সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ ও রেলওয়ের ভূসম্পত্তি বিভাগের এক শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতায় রেলের ভূমি ও কোয়ার্টার ক্রয়-বিক্রয় ও স্থানান্তর চলছে। উেকাচ প্রদানের মাধ্যমে কৃষিজমিও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণেরও অনুমতি নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে কৃষিজমিতে পাকা ঘর স্থাপিত হচ্ছে। অবাধে গড়ে উঠছে অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট, বাসাবাড়ি, মার্কেট, অট্টালিকাসহ নানা স্থাপনা। একটি মহল অবৈধভাবে ভাড়া ও প্লট বিক্রি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

শমশেরনগর স্টেশনের পশ্চিমে কৃষিজমিতে পাকা দেয়ালের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পর সব কৃষিজমি নিঃশেষ হয়েছে। সম্প্রতি বাজারের এক ব্যবসায়ী কৃষিজমির একটি প্লটে অবৈধভাবে পাকা দেয়ালের স্থাপনা নির্মাণ করছেন। তবে তিনি নিজে লিজ নিয়ে ‘বৈধভাবে’ পাকা দেয়াল নির্মাণ করছে বলে দাবি করেছেন। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান। ভূমি দখল ও পাকা ঘর নির্মাণের বিষয়ে রেলের প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা দ্রুত সময়ের মধ্যে খতিয়ে দেখার জন্য বিভাগীয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিলেও একমাস পার হবার পরও তিনি অজ্ঞাত কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। তবে এসব বাণিজ্যের সঙ্গে রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বড় ধরনের একটি চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় হাজার কোটি টাকার মূল্যবান ভূ-সম্পত্তি কৃষি বন্দোবস্ত নিয়ে অবৈধভাবে বাণিজ্য করছেন। ফলে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন। রেলওয়ের বিভাগীয় অফিস থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরাও সিন্ডিকেট করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ে, ঢাকা (পূর্ব) বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. সফি উল্লাহ মোবাইল ফোনে বলেন, শমশেরনগরে ভূমি দখলের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তবে এসব কাজে বিভাগীয় অফিসের কেউ ‘সম্পৃক্ত নয়’ বলে তিনি দাবি করেন। রেলওয়ে (পূর্ব) প্রধান ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।