সিরিয়ায় মার্কিন হামলায় আইএসের জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত

সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর হামলায় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) এক জ্যেষ্ঠ নেতা নিহত হয়েছেন। হেলিকপ্টার দিয়ে অভিযান চালানোর সময় তিনি নিহত হন। মার্কিন সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় আল-জাজিরা। 

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হেলিকপ্টার দিয়ে চালানো ঐ অভিযানের মূল টার্গেট ছিলেন আব্দ আল হাদি মাহমুদ আল হাজি। সোমবার (১৭ এপ্রিল) সকালে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে ঐ হামলা চালানো হয়। 

আব্দ আল হাদি মাহমুদ আল হাজি।

বিবৃতিতে আব্দ আল হাদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং আইএসের অন্যতম সিনিয়র নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আইএস বিদেশে কর্মকর্তাদের অপহরণের পরিকল্পনা করছে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঐদিন অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। 

অভিযানে আইএসের আরও দুই সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই সিরিয়ার ঐ অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে আইএসের অপর এক শীর্ষ নেতা খালিদ আয়াদ আহমেদ আল জাবুরিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। 

আব্দ আল হাদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী এবং আইএসের অন্যতম সিনিয়র নেতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সে সময় জানানো হয়, জাবুরি ইউরোপ ও তুরস্কে হামলার পরিকল্পনার জন্য দায়ী। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, তুরস্ক-সিরিয়ার উত্তর সীমান্তের জারাব্লুস শহরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) পশ্চিমে আল-সুওয়াইদাহ গ্রামের একটি ভবন লক্ষ্য করে ঐ হামলা চালানো হয়। 

২০১৪ সালে উত্থানের পর সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নিজেদের খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে আইএস। সে সময় পূর্ব ইরাক থেকে পশ্চিম সিরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছিল তারা। 

তুরস্ক-সিরিয়ার উত্তর সীমান্তের জারাব্লুস শহরের প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) পশ্চিমে আল-সুওয়াইদাহ গ্রামের একটি ভবন লক্ষ্য করে ঐ হামলা চালানো হয়। 

কিন্তু তিন বছরের মধ্যে, ২০১৭ সালে সিরিয়া অংশে অধিকৃত অধিকাংশ এলাকা হারায় এ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তার দুই বছর পর, ২০১৯ সালে ইরাকের অধিকৃত অঞ্চলগুলোও হাতছাড়া হয়ে যায় তাদের।