কাউন্সিলররা কীভাবে অডিট পাশ করাতেন

ক্রীড়াঙ্গন জুড়ে এখন ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে আলোচনা। সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। সোহাগ ফিফার কাছে অর্থ ব্যয়ের হিসাব দিতে পারেননি। প্রশ্ন উঠছে বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব হিসাব অনুমোদন হয়েছিল কীভাবে। কাউন্সিলররা দামি হোটেলে উঠেছেন। সেখানে সাধারণ সভা হয়েছে। সেই সভায় বছর জুড়ে খরচের হিসাব কীভাবে অনুমোদন হয়ে যেত। কীভাবে না দেখে না পড়ে না বুঝেই কি তাহলে পাশ পাশ বলতেন। সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের রুহুল আমিন তরফদারও সাধারণ সভায় ছিলেন। তিনিও পাশের কথা জানিয়ে গিয়েছিলেন।

সাধারণ সভায় হিসাব নিয়ে কেন কথা বলা হতো না। যেসব কাগজপত্র দেখেশুনে কাউন্সিলররা অনুমোদন দিয়ে আসছেন তা কিসের ভিত্তিতে অনুমোদন দিতেন। একাধিক হিসাব করা হতো। সালাম মুর্শেদীর অর্থ কমিটি, হারুনুর রশিদের অডিট কমিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এই দুই কমিটির সঙ্গে কাজ করেছেন বাফুফের হিসাব বিভাগের লোকজন। এই তিন জায়গা পেরিয়ে আসার পর বাফুফের সাধারণ সম্পাদকের টেবিলে উঠে। সেই হিসাব বার্ষিক সাধারণ সভায় উঠে। সাবেক ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলছিলেন এজিএমের কাজ শুরু হতে না হতে সবাই পাশ পাশ বলে কাজ শেষ করছে। তারা কি দেখে পাশ পাশ বললেন তা বুঝা গেল না।’  কাউন্সিলররা সাধারণ সভায় গিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরে যান। ফুটবল নিয়েও নাকি তারা কথা বলতেন না। নিজ জেলার ফুটবল নিয়ে কোনো দাবি দাওয়ার কথাও উঠাতেন না। কোন জেলায় ফুটবল হয়, কোথায় হয় না। কেন হয় না। এসব নিয়ে জেলার কাউন্সিলরাও কথা তুলতেন না। বাফুফের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতেন। বাফুফে টাকা দিলে ফুটবল চলবে।

সাবেক ফুটবলার আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলছিলেন মাঠের খেলায় যদি পারফরম্যান্স থাকতো তাহলে সমালোচনা কম হতো। এটা একটা স্বাভাবিক বিষয়। মাঠের খেলায় যদি পারফরম্যান্স ভালো হতো তাহলে আজকে এই কথা উঠত না। মাঠে না ভালো খেললে অনেক কিছু বেরিয়ে আসে। আর ভালো খেললে সবকিছু ঢাকা পড়ে যায়। আমরা যখন খেলতাম তখনও এমনটাই হয়েছে। আমি আবাহনীর ফুটবলার। আমি খারাপ খেলছি। কিন্তু আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, আমিও ভালোর মধ্যে পড়ে যেতাম। আবাহনী জিতেনি আমি ভালো খেলেছি। তখন আমিও মন্দের মধ্যে পড়ে যাব। এটাই হয়।’

এতো দিন অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে প্রচুর সমালোচনা হতো। সেটা কেউ বিশ্বাস করত না। ফিফা সবকিছু প্রকাশ করে দিয়েছে। আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলে। এখন আর কেউ অবিশ্বাস করছে না। তার পরও বাফুফে হতে তদন্ত করা হবে, কি হয়েছে এবং কীভাবে হয়েছে। ১০ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেছে, ‘ঘরের লোক দিয়ে তদন্ত করে লাভ নেই। তদন্ত কমিটি নিজেদের রক্ষা করার কাজ করবে।’