সপ্তাহজুড়ে লোকারণ্য থাকবে বেলাভূমি

ঈদে কক্সবাজারের পর্যটনে ৪০০ কোটি টাকা আয়ের আশা

বৈশাখের খরতাপে চলছে দাবদাহ। বাইরে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে। ঘরে থাকতেও গরমে যেন ওষ্ঠাগত প্রাণ। এরই মাঝে মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরে টানা ছয়দিনের ছুটি পড়েছে। শবে কদরের ছুটির সঙ্গে সপ্তাহিক ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে এ লম্বা ছুটি।

এদিকে, পবিত্র রমজানে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের দেখা নেই। আগের রমজানে কমবেশি পর্যটক অবস্থান করলেও এবারের রোজা তীব্র দাবদাহে পড়ায় গরমের ভয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যটক কক্সবাজারে আসেনি।

ছবি: ইত্তেফাক

তবে ঈদের ছুটিতে গরম উপেক্ষা করে লাখো পর্যটক আসবেন বলে আশা করছেন কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার। তার মতে, ঈদে পর্যটক বরণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের অর্ধসহস্রাধিক আবাসিক প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করা হয়েছে। শবে কদর থেকে টানা ছুটি পড়লেও ব্যবসা হবে মূলত ঈদের পরদিন থেকে। সরকারি ছুটি পর্যন্ত অবস্থান করবেন সরকারি-বেসরকারি কর্মজীবীরা। এরপর পরবর্তী শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজারে অবস্থান করতে পারেন ভ্রমণপিয়াসীরা। এ ক'দিনে লাখো পর্যটক অবস্থান করলে সাতদিন টানা ব্যবসা জমলে ৩-৪শ' কোটি টাকা বাণিজ্য হতে পারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা ও সেবায়। এমনটাই আশা ব্যবসায়ীদের।

আবুল কাসেম সিকদার আরও বলেন, অনেক পর্যটক ঈদে বেড়াতে হোটেল-মোটেলের সঙ্গে ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ হাজার পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করবেন বলে আশা করা যায়। বৈশাখের উত্তাল সাগর এসব পর্যটকদের ভিন্ন আমেজ উপহার দেবে। ফেডারেশনভুক্ত আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে ৩০-৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ছবি: ইত্তেফাক

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, তারকা হোটেলগুলো সারা বছরই একই নিয়মে সেবা দিয়ে থাকে। তবে রুম ভাড়ায় সময়ভেদে ডিসকাউন্ট কমবেশি হয়। এবারের ঈদে আমরা সাশ্রয়ী প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। কেউ প্যাকেজ নিয়ে আসলে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাচ্ছেন। পৃথকভাবে এলে রুম ভাড়ায় ২৫-৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট পাচ্ছেন পর্যটকরা। আমরা ঈদের আমেজ দিতে ২৮ এপ্রিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। গরমের কারণে পর্যটক সমাগম বেশি না হলেও আশানুরূপ ভ্রমণপিয়াসী আসবেন, এমনটিই আশা করছি। পর্যটক বরণে সকল প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

সেন্ডি বিচ রেস্তোরাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও বৃহত্তর বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, বৈশাখের দাবদাহ থাকলেও ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত হবে কক্সবাজার- এমনটি আশা সবার। পর্যটকদের সার্বিক সেবা দিতে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

হোটেল দি কক্স টুডে'র সহকারী মহাব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অন্য বছরের মতো এবারও তৈরি আমরা। পরিচ্ছন্ন আবহই পাবেন পর্যটকরা- সেই নিশ্চয়তা দিতে পারি।

লেগুনা বিচ হোটেলের পরিচালক মুহাম্মদ রিদুয়ানুল হক বলেন, কক্সবাজার দিয়ে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করে, সেভাবে পর্যটনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই।

জেলা সদরের বাইরেও হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী, মহেশখালী, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কসহ জেলার সব পর্যটন স্পট সাজানো হচ্ছে।

ছবি: ইত্তেফাক

ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক (ইনচার্জ) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, পার্কের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। অতীত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে পর্যটক বরণে প্রস্তুত সাফারি পার্ক। যে কোনো দিবস, ঈদ-পার্বণে এখানে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার সমাগম ঘটে লক্ষণীয়।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী বলেন, দেশময় ভয়াবহ গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে। কক্সবাজারেও এর ব্যত্যয় নেই। এরপরও উল্লেখ করার মতো পর্যটক ঈদে বেড়াতে আসবে- সেটা কাম্য। গড়ে ৫০ হাজার পর্যটক সপ্তাহখানেক সময় কক্সবাজার অবস্থান করলে পর্যটন অনুষঙ্গ সকল সেক্টর মিলে সাড়ে ৩ থেকে ৪২০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাণিজ্য হতে পারে।

ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন জানান, ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটক আগমণ বাড়বে- সেটা মাথায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধ দমনে কয়েকটি ভাগে সাজানো হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশকে। টেকনাফ ও ইনানীসহ সব পর্যটন স্পটে ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজনে সহযোগিতা নেওয়া হবে জেলা পুলিশের।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সৈকতের প্রবেশপথে তল্লাশি চৌকি স্থাপন, পোশাকধারীর পাশাপাশি সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। সৈকতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য রয়েছে টিম।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে দূর-দুরান্ত ছাড়াও স্থানীয় নানা বয়সের পর্যটকের পদচারণা পড়বে বালিয়াড়িতে। ভ্রমণপিপাসুদের বিচরণ নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের একাধিক টিম টহলে থাকবে। টহল দেবে পুলিশ-র‍্যাবসহ সাদা পোশাকের শৃঙ্খলা বাহিনীও। ভ্রমণপিয়াসীদের নির্মল আনন্দ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।