অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিকাশের দুই এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। নোয়াখালীর চাটখিল থানার আদর্শ টেলিকম, বাবর টেলিকম, নিউ শাড়ি গ্যালারি অ্যান্ড কসমেটিকস নিজেদের ব্যবসার আড়ালে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই এজেন্টরা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের লেনদেন বিবরণী বিশ্লেষণ করে সিআইডি বলছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো তিন বছরে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা বিদেশে পাচার করার তথ্য তারা পেয়েছেন।
সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বলেন, সম্প্রতি নোয়াখালীর চাটখিলের দক্ষিণ রেজ্জাকপুর থেকে শাহাদাত হোসেন (২৩) এবং বলাই চন্দ্র দাসকে (২৬) গ্রেফতার করে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত হোসেন জানায়, তার আপন চাচা কাতার প্রবাসী মনোয়ার, সৌদি প্রবাসী মিজান, হংকং প্রবাসী মমিনসহ বেশ কিছু প্রবাসী বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে ঐ টাকা বাংলাদেশে না পাঠিয়ে নিজেদের কাছে জমা রাখে। হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমো-এর মাধ্যমে শাহাদাতকে বিকাশে ক্যাশ-ইন করার জন্য নাম্বার প্রেরণ করে। বিদেশ থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর দেশে অবস্থানরত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান শাহাদাতের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দেয়। শাহাদাত্ হোসেন ব্যাংকে জমা হওয়া টাকা উত্তোলন করে বিকাশ থেকে এজেন্ট নাম্বারের ই-মানি সংগ্রহ করে। শাহাদাত এবং বলাই বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের নির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের আত্মীয়দের বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠায়। এভাবে একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশে রেমিট্যান্স না এনে বিদেশে অর্থ পাচার করছে। গ্রেফতারের সময় তাদের দুই জনের কাছ থেকে অর্থ পাচারের কাজে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম, একটি ল্যাপটপ, সাতটি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, চেক বই, ব্যাংকের এটিএম কার্ডসহ নগদ ১৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা হয়েছে।