গাড়ি জেতা অনুপের বাবার চিকিৎসাও করালো নগদ

রাজধানীর একটি হাসপাতাল। এখানে হার্টের অপারেশন হয়েছে অনুপ অধিকারীর বাবা সুশান্ত অধিকারীর। এই হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে এমন অপারেশন হয়তো নতুন কিছু নয়। কিন্তু নতুন ব্যাপার হলো, অপারেশনের পরের ব্যাপারটা। এই সুশান্ত অধিকারীকে দেখতে একগাদা উপহার হাতে নিয়ে হাজির হয়েছেন মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক। শুধু তাই নয়, এই রোগীর সাথে ভিডিওকলে কথা বললেন তামিম ইকবাল। কিন্তু কেনো?

এক কথায় উত্তর দিলেন অনুপ অধিকারী, ‘নগদ আমার শুধু ভাগ্য বদলায়নি, জীবনও বদলে দিয়েছে। তারা আমাকে একটা গাড়ি উপহার দিয়েছে। তার চেয়ে বড় ব্যাপার, যে বাবাকে ফিরে পাওয়াটা আমার সম্ভব ছিলো না, অপারেশন করিয়ে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে।’

ক্যাম্পেইনে নগদ পেমেন্ট করে কেনাকাটা করে সেডান গাড়ি পেয়েছিলেন অনুপ। আর তখনই তামিম ইকবাল কথা দিয়েছিলেন, তার বাবার চিকিৎসাও করানো হবে। সেই কথাটাও রাখলো নগদ। রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ হলো তার অপারেশন।

কেনাকাটায় উপহার পাওয়ার বিশাল এক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে নগদ। মাত্র ৫০০ টাকার কেনাকাটা করেই লাখ, কোটি টাকার উপহার জেতার সুযোগ পাচ্ছেন নগদ ব্যবহারকারীরা। এই ক্যাম্পেইনে শেষ অবধি রয়েছে একটা কোটি টাকার একটা বিএমডব্লু গাড়ি। ইতিমধ্যে এই ক্যাম্পেইনের পুরষ্কার পেতে শুরু করেছেন বিজয়ীরা। বিজয়ীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এইসব পুরস্কার হাতে তুলে দিচ্ছেন সেলিব্রিটিরা। তারই অংশ হিসেবে নিজের জেতা সেডান গাড়ি বুঝে পেলেন অনুপ।

ক'দিন আগে একটি ই-কমার্স সাইট থেকে তেল, পোলাউ চাল কিনেছিলেন অনুপ। ১১৩৫ টাকা বিল এসেছিলো। আর এই কেনাকাটা করাতেই অনুপ পেয়ে গিয়েছিলেন একটি সেডান কার। সেই গাড়ি নিয়ে অনুপের বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন তামিম ইকবাল স্বয়ং।

অনুপ বলেন, ‘আমার জন্য তামিম ইকবালকে দেখাটাই জীবনের সেরা প্রাপ্তি ছিলো। উনিতো সারা বিশ্বের তারকা। উনাকে কাছ থেকে দেখাও কঠিন। সেখানে উনি নিজে আমার বাসায় এসে হাজির হয়েছেন। আমি কোনো কিছু মিলাতে পারছিলাম না। তামিম আমার বাসায় আসবেন কেনো, তামিম আমার সাথে কেনো কথা বলবেন, কিছু বুঝতে পারছিলাম না।’

তামিমের এই উপস্থিতিই অনুপকে ঘোর লাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। কিন্তু এরপর তামিম তাকে বললেন, নগদ-এ কেনাকাটা করে তিনি একটা ফ্রিজ জিতেছেন। নিচে নেমে দেখলেন একটা গাড়ি। এই দৃশ্য অনুপ কখনোই ভুলবেন না। ধরা গলায় বলছিলেন, ‘আমার জীবনে এর আগে এমন দিন কখনো আসেনি। আর আসবে বলেও মনে হয় না। তামিম ইকবালের কাছ থেকে একটা সেডান কার বুঝে পেলাম, এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। আমার মতো একজন মানুষের জন্যে একটা সেডান গাড়ি তো সারাজীবন মনে রাখার মতো ব্যাপার।’

অনুপের বাবা সুশান্ত অধিকারীর জন্যও এটা আজীবন মনে রাখার মতো একটা ব্যাপার ছিলো। সাবেক এই বেসরকারি চাকরিজীবী মানুষটার দিন কাটে এখন শুয়ে-বসে। ভুগছিলেন হৃদরোগে। কিন্তু অর্থের টানাটানিতে চিকিৎসা হচ্ছিল না। তামিম আর তানভীর এ মিশুক এই কথা শুনে তার চিকিৎসার দায়িত্বও নিলেন। সেই চিকিৎসাও অত্যন্ত সফলতার সাথে শেষ হলো।

নগদ-এর এমডি তানভীর এ মিশুকের কাছ থেকে ঈদ উপহার হাতে নিয়ে চোখ মুছতে মুছতে সুশান্ত অধিকারী বলছিলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি, আমার চিকিৎসাটা হবে। সেটা আপনাদের কারণে হলো। আমি আপনাদের সবার জন্য দোয়া করি।’

অনুপ বলছিলেন, ‘আমার বাবার চিকিৎসা করানোটা আসলে আমার জন্য সেরা পাওয়া হয়েছে। মানুষের জীবনের একটু মোড় ঘোরে। নগদ আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে। বাবার চিকিৎসা হলো। এখন আরও দুটো ব্লক আছে, তানভীর ভাই বলেছেন, সেটাও ওনারা দেখবেন। এরপর আমার আর কী চাই?’