ঈদে শূন্য থেকে ধীরে ধীরে পর্যটকে মুখর হচ্ছে কক্সবাজার

এবার দাবদাহে ঈদুল ফিতরের দিন পর্যটক শূন্যই ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার। তবে রোববার (২৩ এপ্রিল) সকাল হতে ধীরে ধীরে পর্যটক মুখরিত হয়েছে সৈকত বেলাভূমি।

এদিন সকালের রোদ উপেক্ষা করে সমুদ্রস্নান এবং আনন্দ-উল্লাসে মেতেছেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা। এতে খুশি পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতি জানায়,  রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের কলাতলী, সুগন্ধা, সিগাল, লাবণী পয়েন্ট, হিমছড়ি, ইনানী সৈকত এলাকা আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার পর্যটক উপস্থিতি দেখা গেছে।

সাতক্ষীরার আসাশুনি থেকে সপরিবারে বেড়াতে আসা সরকারি চাকরিজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০১৯ সালের পর কক্সবাজারে আসেছিলাম এরপর এবার আবার আসলাম। বুধবারে চলে যাবো সেভাবেই ঈদের আগে রুম বুকিং দেওয়া হয়েছিল। পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে আনন্দে কাটাতে সৈকতসহ মেরিনড্রাইভ ভ্রমণ ও পাহাড় জলের মিথালি উপভোগ করার ইচ্ছে আছে।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমী তানিন রায়হান অরণ্য বলেন, টেলিভিশনে দেখে দেখে কক্সবাজার সৈকতের প্রতি একটি মোহ তৈরি হয়ে যায়। নানা প্রচেষ্টার পর সকল বন্ধু মিলে এবারের ঈদটা কক্সবাজারে কাটাতে এসেছি। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ক্যামেরায় দেখা দৃশ্যের চেয়ে বেশি সুন্দর। মোটামুটি ফাঁকা বালুচরে ফুটবল খেলে, বিচে বাইক চালিয়ে হৈ হুল্লোড় ও সমুদ্রস্নান মজা করেছি আমরা।

ফেনীর দাগনভূইয়ার আসাদুজ্জামান ও আয়েশা দম্পতির মতে, ব্যাটে-বলে মিলছিল না বলে কক্সবাজার আসা হয়নি। এবার টানা ছুটি পেয়ে, মা-বাবা ও পরিবার নিয়ে বালুচরে ঈদ করতে এসেছি। প্রতিবছর ঢাকায় বা গ্রামে ঈদ করা হয়। কিন্তু এবার কক্সবাজারে ঈদ উদযাপন অন্যরকম লাগছে, যদিও আবহাওয়া খুবই গরম।

ধীরে ধীরে পর্যটকে মুখর হচ্ছে সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। ছবি: ইত্তেফাক

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, কক্সবাজারের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলের ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। ভাড়ায় ছাড় চলছে। রোববার হতে পর্যটক আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ঈদের ছুটিসহ আগামী রোববার পর্যন্ত কয়েক লাখের বেশি পর্যটকের সমাগম আশা করা হচ্ছে।

তবে হতাশা প্রকাশ করে হোটেল সি-নাইটের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী জানান, এবারের মতো ঈদ আর আসেনি। করোনায় বন্ধ থাকা পর্যটনের সময় ছাড়া বাকী ঈদে কয়েকদিন আগাম ভাড়া হয়েছে অধিকাংশ আবাসন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এবার এর উল্টোটা ঘটেছে। সুগন্ধা পয়েন্ট ছাড়া বাকি ব্লকের হোটেলগুলোতে আগাম বুকিং নেই বললেই চলে। অধিকাংশ গেস্ট হাউস ও হোটেল ওয়াকিং গেস্টের ওপর নির্ভর করে আছে।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, শহরে সাড়ে ৫ শতাধিক রেস্তোরাঁ রয়েছে। সমিতির আওতাভুক্ত রেস্তোরাঁগুলোতে মূল্য তালিকা রয়েছে। তালিকার চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা প্রশাসনের একাধিক তথ্য ও অভিযোগ কেন্দ্রে নালিশ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত ট্যুরিস্ট পুলিশের এসআই ইকরাম হোসেন জানান, হোটেল-মোটেল জোন ও পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য সৈকতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ নানা সেবামূলক ব্যবস্তা নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পর্যটন সেল ইনচার্জ মো. আবু সুফিয়ান বলেন, জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অতিরিক্ত ভাড়া, পর্যটক হয়রানি রোধে তারা মাঠে রয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপদে কক্সবাজার ভ্রমণে সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে প্রশাসন।

পর্যটকে মুখর হচ্ছে কক্সবাজার। ছবি: ইত্তেফাক

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। জেলার প্রতিটি পর্যটন স্পটে নজরদারি ছাড়াও সমুদ্র সৈকতে ২৪ ঘণ্টা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি