বিদায় ‘লায়ন অব পাঞ্জাব’

পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী তারেক ফাতেহ মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি।

তারেক ফাতেহ ইসলামি মৌলবাদ এবং সন্ত্রাসবাদের কট্টর বিরোধী ছিলেন। সেজন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কট্টরপন্থীদের রোষানলে পড়েছেন। নিজেকে ‘হিন্দুস্তানের সন্তান’ বলতেও ভয় করতেন না তিনি।

তারেক ফাতেহ ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচির একটি পাঞ্জাবি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পরে মুম্বই থেকে করাচি চলে যায় ফাতেহ পরিবার। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করার পর ১৯৭০ সালে করাচির সান পত্রিকায় যোগ দেন তারেক ফাতেহ।

পরে পাকিস্তানি টেলিভিশনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুরু করেন। তার নির্ভিক সাংবাদিকতার জন্য পাক শাসক দলের রোষের মুখে পড়েন তিনি। ১৯৬০ থেকে ৭০ সালের মধ্যে তৎকালীন পাক সামরিক শাসক তাকে দুইবার কারাবন্দি করেছিল। ১৯৯৭ সালে ফাতাহ-র বিরুদ্ধে আনা হয় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ।

তার উপর জারি করা হয় নিষেধাজ্ঞা। এরপর পাকিস্তান ছেড়ে সৌদি আরবে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন তিনি। ১৯৮৭ সালে স্থায়ীভাবে কানাডায় গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। ফাতাহ নিজেকে পরিচয় দিতেন, একজন পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া ভারতীয়, ইসলামে জন্ম নেওয়া একজন পাঞ্জাবি, কানাডায় একজন ইসলামিক চেতনার মার্ক্সবাদি যুবক হিসেবে।