গাজীপুরে ঘরোয়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা

আগামী ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে পুরো মহানগর জুড়ে নির্বাচনি আবহের পাশাপাশি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনিশ্চয়তা থাকলেও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্রমশ আগ্রহের সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ১০ মে থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কথা থাকলেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা বিভিন্ন কৌশলে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ঘরোয়া প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামীকাল ২৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের সর্বশেষ তারিখ। গাজীপুর শহরের শহীদ বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত মেয়র পদে ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম। নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ঘরোয়া নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেছেন। আগামী ৯ মে প্রতীক বরাদ্দের পর ১০ মে থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। তবে দুই-তিন মাস আগে থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছেন। বিশেষ করে, গত রমজান মাসে এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় ইফতার মাহফিল ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নির্বাচনি তৎপরতা ছিল লক্ষণীয়।

আওয়ামী লীগ থেকে এবার গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন গত নির্বাচনে বিজয়ী কিন্তু বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য  সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিপুল ভোটে গত সিটি নির্বাচনে বিজয়ী জাহাঙ্গীর আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই জাহাঙ্গীর আলমের সিদ্ধান্তের ব্যাপারটি স্পষ্ট হবে। এদিকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া আজমতউল্লা খান গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এটা যেমন তার প্রত্যাশা ছিল, তেমনি প্রত্যাশা ছিল ভোটারদেরও। দলের পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দল-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মহানগর কমিটির সভাপতি সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, যোগ্য মনে করেই পার্টির চেয়ারম্যান তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দীর্ঘ ১০ বছরে গাজীপুর সিটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। সিটির উন্নয়ন ও জনগণের সেবা করার জন্যই তিনি মেয়র পদে নির্বাচিত হতে চান।

গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত যে ১০ জন মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তারা হলেন—আওয়ামী লীগ মনোনীত অ্যাডভোকেট আজমতউল্লা খান, জাতীয় পার্টি মনোনীত এম এম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত গাজী আতাউর রহমান, গণ ফ্রন্টের আতিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল, সরকার শাহনুর ইসলাম, রাজু আহমেদ, মো. আবুল হোসেন, মো. হারুন অর রশীদ ও মোখলেছুর রহমান। তবে জাহাঙ্গীর আলম মঙ্গলবার পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি বলে জানা গেছে।