দুদক কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

মাদারীপুরের রাজৈরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার লুনদী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মাদারীপুর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পূর্ব লুন্দি গ্রামের মৃত শামসুল হক মিয়ার ছেলে আনিসুর রহমান বাবুল (৩৫) ও তার সহযোগী একই উপজেলার পশ্চিম লুন্দি গ্রামের সৈয়দ ইদ্রিস আলী মীরের ছেলে সৈয়দ আসাদুজ্জামান মীর (৩৩)।  । 

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, আমান মীর ও আনিসুর রহমান দুর্ধর্ষ প্রতারক। তারা দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে। তাদের মূল টার্গেট ছিল ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে আমান মীর প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আরও অনেকের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ শাখা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করে।

আনিসুর রহমানকে দেড় মাস আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে এখনো ৭ টি মামলা চলমান রয়েছে। সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে প্রতারণার কাজে আবারও লিপ্ত হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। এই চক্রের মূল হোতা সৈয়দ আমান মীরকে সহযোগিতা করে অর্থের ভাগ নিতো আনিসুর। অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন, ২২টি সিম কার্ড, নগদ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা ও বিসিএস ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে।  

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়হান সিদ্দিকী শামীম বলেন, অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মূল হোতা সৈয়দ আমান মীর ও আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের সঙ্গে এই চক্রের আরও সদস্য থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, তারা নিজেদেরকে দুদক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতো। এই প্রতারক চক্রটি মানুষকে ফাঁদে ফেলে টাকা নিতো। গোয়েন্দা বিভাগ অভিযোগ পাওয়ার পর পরই তাদের গ্রেপ্তার করি।