‘ওরা কি সুযোগ পাবে?’- প্রশ্নটা করেছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। প্রসঙ্গ, লিটন দাস ও মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা। বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারকে বিসিবি অনাপত্তিপত্র দেবে কিনা, এমন প্রশ্নে কথাটা বলেছিলেন পাপন। না, আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন লিটন-মোস্তাফিজ। ভারতীয় প্রতিযোগিতায় মোস্তাফিজের আগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারই প্রথম জমকালো টি-টোয়েন্টি লিগে খেললেন লিটন। তো লিটনের অভিজ্ঞতা কেমন হলো?
জাতীয় দলের ব্যস্ততা থাকায় আইপিএলের মাঝপথেই ফেরার কথা ছিল এই উইকেটকিপারের। তবে লিটন ফিরলেন আরও আগে। জরুরি পারিবারিক কারণে আগেভাগেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। আজ (শুক্রবার) কলকাতা নাইট রাইডার্স ক্যাম্প ছেড়ে ধরতে হয়েছে দেশে ফেরার বিমান। সময়ের হিসাব বলছে, এবারের আইপিএলে ১৯ দিন কাটিয়ে আসলেন লিটন। নতুন এই মিশনে প্রাপ্তির খাতায় কী যোগ করতে পেরেছেন তিনি?
২০২৩ সালের আইপিএল নিলামে ভিত্তিমূল্যের ৫০ লাখ রুপিতে কলকাতা কিনে নেয় লিটনকে। সাকিব আল হাসানের পর আরও এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ‘ঘর’ হলো কলকাতা। সেই থেকে আইপিএলের অপেক্ষা, কবে কেকেআরের জার্সিতে দেখা যাবে লিটনকে! কিন্তু জাতীয় দলের ব্যস্ততায় অপেক্ষার সময় কেবল দীর্ঘই হচ্ছিল।
অবশেষে বিসিবি থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে কলকাতা ক্যাম্পে যোগ দিলেও মাঠে নামার সুযোগ হচ্ছিল না লিটনের। কলকাতার ম্যাচ এলেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আশা জাগে, এই বুঝি আইপিএলে অভিষেক হয়ে যাচ্ছে লিটনের। কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ যায়, লিটনের সুযোগ হয় না। অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ২০ এপ্রিল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে কলকাতার জার্সি গায়ে মাঠে নামেন বাংলাদেশি ব্যাটার।
টিভি কিংবা মোবাইলের সামনে অপলক দৃষ্টি নিয়ে বসে পড়েন ক্রিকেটভক্তরা। লিটনের দারুণ সব শট উপভোগের আশায় তারা। কিন্তু কিছুই হলো না। শুরুতেই আশাভঙ্গ। একটি বাউন্ডারি যদিও মেরেছেন, তবে যেভাবে আউট হয়েছেন, লিটন নিজেই হয়তো হতাশ! মুকেশ কুমারের শর্ট বল মারতে গিয়েও কেন জানি মারলেন না। বৃত্তের ঠিক বাইরে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন মাত্র ৪ রানে।
আইপিএল অভিযানে ১৯ দিনের ভ্রমণে লিটন পেয়েছেন ওই একটি ম্যাচই। যেখানে ব্যাট হাতে ৪ বলে ৪ রানের পর উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে নড়বড়ে পারফরম্যান্স। মাঠের খেলায় প্রাপ্তির হিসাব কষলে তেমন কিছুই নেই লিটনের জন্য। না ব্যাটিংয়ে, না কিপিংয়ে। সেকারণেই হয়তো কেকেআরের জার্সিতে আর সুযোগ আসেনি তার।
মাঝে কয়েক ম্যাচ বেঞ্চ গরম করার পর হয়তো আরেকটি সুযোগ আসতো লিটনের। আগামীকাল (শনিবার) গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলবে কলকাতা। ইডেন গার্ডেনসের ম্যাচটিতে খেলার সম্ভাবনা ছিল লিটনের। এ কারণেই কিনা নেটে ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু ওই অনুশীলনের মাঝেই খবর আসে- পরিবারের এক সদস্যের অসুস্থতার।
এক ম্যাচ দিয়ে পৃথিবীর কোনও ক্রীড়াবিদকেই মূল্যায়ন করা যায় না। তাই আইপিএলে লিটন ব্যর্থ নাকি সফল, সেই আলোচনার সুযোগ নেই। তবে প্রাপ্তির কথা আসলে ১৯ দিনের ভ্রমণে অনেক কিছুই সঙ্গী হয়েছে লিটনের। নামিদামি সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে ড্রেসিং রুম শেয়ার করার ব্যাপার তো আছেই, একই সঙ্গে আইপিএলের উত্তাপ গায়ে মেখে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার আরও সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। তাছাড়া ভারতীয়দের কাছে ‘বিশ্বকাপ’ হিসেবে বিবেচিত আইপিএল মঞ্চে দাঁড়ানোর সুখস্মৃতিও তো কম প্রাপ্তি নয়!
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লিটন কি আইপিএলে আবার ফিরবেন? দেশে ফিরে আসায় তিনি কলকাতার পরের ম্যাচ নিশ্চিত মিস করছেন। এরপর কেকেআরের পরের ম্যাচ ৪ মে। এদিকে ৫ মে ইংল্যান্ডে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা বাংলাদেশ দলের। ওই ম্যাচের আগেই সেখানে যাওয়ার কথা লিটনের। অর্থাৎ, আপাতত কলকাতার ক্যাম্পে ফেরার সম্ভাবনা নেই তার। ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া আয়ারল্যান্ড সিরিজ শেষেই কেবল আইপিএলে ফেরা সম্ভব লিটনের।