আমরা সুদানকে ধ্বংস করতে চাই না: জেনারেল হেমেডটি

সুদানে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যেকার চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির। ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে হাজার হাজার মানুষকে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে।

ক্ষমতা দখলে লড়াইরত জেনারেলদের একজন মোহাম্মদ হামদান হেমেডটি ডাগালো। তিনি আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রধান। 

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেনারেল হেমেডটির নেতৃত্বাধীন আরএসএফ-এর লড়াই চলছে। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনারেল হেমেডটি বলেছেন, তৃতীয় দফায় তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরেও তার সেনাদের ওপর অবিরাম বোমবর্ষণ হচ্ছে। তিনি চলমান সহিংসতার জন্য সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানকে দায়ী করেছেন।

সুদান

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সুদানকে ধ্বংস করতে চাই না। আমার সেনাদের ওপর বোমাবর্ষণ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় বসবো না’।

জেনারেল বুরহান দক্ষিণ সুদানে সরাসরি আলোচনার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্মতি দিয়েছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বৃহস্পতিবার রাতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ তিন দিন বাড়াতে সম্মত হয় দুই বাহিনী।

ফোনে বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাতকারে মি. হেমেদটি জানান, ‘তিনি আলোচনায় রাজি কিন্তু শর্ত হলো যুদ্ধবিরতি মানতে হবে। শত্রুতা বন্ধ করুন। এরপরেই আমরা আলোচনায় বসতে পারি।’

সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধা-সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-র মধ্যে সংঘাত এখনও চলছেই।

তিনি আরও বলেন, ‘জেনারেল বুরহানের সাথে তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা নেই। তবে তিনি দেশটির ক্ষমতাচ্যুত শাসক ওমর আল বশিরের অনুগতদের সরকারের নিয়ে আসার অভিযোগ করে জেনারেল বুরহানকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১৯ সালে বশিরের নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ এতে নেতৃত্ব দিয়েছিল।’

হেমেডটি জানান, ‘বশিরের তিন দশকের রাজত্বকাল পরিচিত ছিলো ইসলামপন্থী আদর্শ ও শরিয়া আইন কার্যকরের জন্য। দু:খজনকভাবে বুরহান পরিচালিত হচ্ছে উগ্রবাদী ইসলামী নেতাদের দ্বারা।’

সুদানে যুদ্ধ

জেনারেল হেমেডটি ও জেনারেল বুরহান ২০২১ সালে এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। পরে তারা বেসামরিক সরকারের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করার একটি চুক্তি বাতিল করেন।

জাতিসংঘ জানায়, সুদানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচশো মানুষ নিহত হয়েছে। লাখ লাখ সুদানি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে এবং প্রায়শই যাওয়ার জন্য তাদের টাকা দিতে হচ্ছে এবং যাত্রাপথে হয়রানির শিকার হচ্ছে।

জাতিসংঘের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স বলেছে অনেকে প্রায় চারশো কিলোমিটার হেঁটে খার্তুম থেকে দক্ষিণ সুদান সীমান্তে গেছে।

এদিকে তুরস্কের একটি উদ্ধারকারী বিমান খার্তুমের বাইরে একটি বিমানবন্দরে অবতরণের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এতে কেউ হতাহত হয়নি।