ফুটপাতে অবাধে চোরাই মোবাইল বিক্রি, নীরব প্রশাসন  

নওগাঁর নিয়ামতপুরের বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতে অবাধে চলছে চোরাই মোবাইল কেনাবেচা। প্রশাসন নানা সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও চোরাই মোবাইল কেনাবেচার কারবারিরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। সম্প্রতি পুলিশের নানা ধরনের উদ্যোগে অপরাধ কমে আসলেও ‘চোরাই মোবাইল কেনাবেচা রোধে প্রশাসন অনেকটাই নীরব।

জানা যায়, উপজেলার কিশোর গ্যাং দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে চোরাই মোবাইল কেনাবেচা। সংঘবদ্ধ বিভিন্ন অপরাধী চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি ছিনতাই করে দালালের মাধ্যমে এ সকল চোরাই পণ্য সরবরাহ করে  থাকে। দিন-দুপুরে প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব চোরাই মোবাইল বাজারে কেনাবেচা চলে। 

mobile niyamotpur nowga-2

সম্প্রতি, গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরে পড়ে চোরাকারবারি চক্রের সদস্যরা। তবে জেল থেকে বেরিয়ে এসে তারা আবারও আগের পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার রামকুড়া গ্রামের সামিউল ইসলাম রতন,  শ্রীমন্তপুর গ্রামের হোসাইন, গ্রামের রেজাউল ইসলাম বিপ্লবসহ আরও অনেক কিশোর গ্যাং দ্বারা এসব চোরাই মোবাইল বেচাকেনা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু মোবাইল ফোন নয়; একটু অপেক্ষা আর বিক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে পারলে চাহিদা অনুযায়ী মিলে বাহারি মডেলের দামি ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ এসব চোরাই মোবাইলের ক্রেতা বলে জানা যায়। 

mobile niyamotpur nowga-3

চোরাই মোবাইল কিনতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবক বলেন, দামে কম হওয়ায় ঝুঁকি আছে জেনেও চোরাই মোবাইল নিয়েছি। শো-রুমের চেয়ে অনেক কম দামে এখানে মোবাইল পাওয়া যায়। মার্কেটে যে মোবাইল ১০-১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। সে মোবাইল চোরাই মার্কেটে ৪-৬ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক চোরাই মোবাইল বিক্রেতা বলেন, ‘প্রশাসনের বড়-ছোট সব বসকে ম্যানেজ করতে পেরেছি বলেই এতদিন ধরে চোরাই সেটের ব্যবসা করতে পেরেছি।’

mobile niyamotpur nowga-4

উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলেন, চোরাই মোবাইলের জন্য আমাদের ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।  প্রশাসনের নাকের ডগায় চলে চোরাই মোবাইল বেচাকেনা। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার। এসব চোরাই মোবাইল বেচাকেনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে স্থানীয় কিশোর গ্যাং জড়িত। প্রশাসন চাইলে আইন প্রয়োগ করে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

নিয়ামতপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সদরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি রয়েছে। যারা চোরাই মোবাইল ফোন বেচাকেনা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।