নিজ ক্যাম্পাসে 'মারধর ও ছিনতাই' এর শিকার রাবি শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শিক্ষার্থী মারধর ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) ভোর ৫টায় সুইমিংপুল সংলগ্ন রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. আরিফ হোসেন মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত তিন ছিনতাইকারী হলেন, মকবুল হোসেনের ছেলে রুমি, সিরাজুল ইসলামের ছেলে রাজু ও রাব্বি। তারা নগরীর নতুন বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, শুক্রবার ঢাকা থেকে আমার এক বন্ধু রাজশাহীতে আসে। তাকে নিয়ে সুইমিংপুল সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে শাহ্ মখদুম হলের দিকে আসার সময় একটা বাইকে তিনজন ব্যক্তি বড় রেঞ্জ ও ছুরি প্রদর্শন করে। আমাকে শারীরিক আঘাত করে এবং আমার কাছে থাকা সব জিনিস বের করতে বলে। আমি তাতে রাজী না হওয়ায় আমাকে ও আমার বন্ধুকে টেনে হিঁচড়ে জিমনেসিয়ামের রাস্তার দিকে নিয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, ঘটনার শেষদিকে যখন আমি চিৎকার করতে থাকি তখন বিনোদপুরের দিক থেকে দুজন ছেলে দৌড়ে আসে এবং ঐ তিনজন তখনও আমাকে মারতে থাকে। ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পরে সেই দুজন ছেলে জানায়, তিন ছিনতাইকারীর দুজনের নাম জানা আছে এবং একজনের সাথে তিনি ফেসবুকে যুক্ত আছেন। পরবর্তীতে গতকাল বড় ভাইদের সহযোগিতায় ছিনতাইকারীদের সকল তথ্য জোগাড় করে থানায় দেই এবং অভিযোগ দায়ের করি।

রোববার সন্ধ্যায় যখন আমি থানায় অবস্থান করি ছিনতাইকারী রুমির মা ও মামাতো ভাই থানায় এসে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে আমার সাথে এসে মীমাংসার কথা বলে। তবে আমি কোনো মীমাংসায় যাইনি। আমি এর সঠিক বিচার চাই।

এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, ক্যাম্পাসের মধ্যে এমন ঘটনা দুঃখজনক।  আমাদের ক্যাম্পাসের অনেকগুলো গেট হওয়ার কারণে পুরো ক্যাম্পাস আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। এছাড়া আমাদের সিসি ক্যামেরার সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। এ ধরণের ঘটনা যেন ক্যাম্পাসে আর না ঘটে সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। ছিনতাইয়ের শিকার শিক্ষার্থীকে আমরা সব ধরণের সহায়তা করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা এবিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। এখন আমরা এটা অভিযোগ হিসেবেই নিয়েছি। সব কিছু জেনে আমরা এর বিরুদ্ধে একটা পদক্ষেপ নিতে পারবো।