বাফুফের চার ঘণ্টার সভায় যা হলো

চোখ-কান খোলা রাখতে চায় বাফুফে। অর্থ ব্যয়ে ফিফার যেসব নিয়ম রয়েছে, তা পুরোপুরি অনুসরণ করতে চায় সংস্থাটি। সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন বিশ্বাস করে অন্যান্য কমিটির ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। এর দেখভালের জন্য সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ দায়িত্বে ছিলেন। তার পরও ফিফার নির্দেশনা মানা হয়নি বলে সোহাগকে নির্বাসনে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেটা মাথায় রেখে বাফুফে সাবধানে পা ফেলতে চায়। চার ঘণ্টার সভায় সবাই কথা বলেছেন। নিজেদের মতামত দিয়েছেন। অপেক্ষায় থাকা সংবাদমাধ্যমের মধ্যে আলোচনা গরম খবর থাকবে। তাই উপচে পড়া সাংবাদিক হাজির বাফুফে ভবনে। বাফুফের চার ঘণ্টার সভা শেষে জানা গেল, সোহাগকাণ্ডে গঠিত তদন্ত কমিটি কীভাবে কাজ করবে এবং ফিফার প্রজেক্ট নিয়ে বাফফের পরিকল্পনা।

ফিফার কাছ থেকে ৭০ লাখ ডলার পাবে বাফুফে। দুটি প্রজেক্টে এই অর্থ পাবে। সেটি ভালোভাবে কাজে লাগাতে উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। এর মধ্যে ৩ দশমিক ৬২ মিলিয়ন ডলার আগামী ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে ফিফার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। না পারলে সেটা ফেরত যাবে। ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওয়তা আসবে সেই অর্থ।

কক্সবাজারে ফিফার অর্থে বাফুফের ফুটবল ট্রেনিং সেন্টার হবে। সেই অর্থ ছাড় দেওয়ার আগে ফিফার নিয়মে জমি বাফুফের নামে হতে হবে।  অন্তত ১০ বছরের জন্য লিজ পেতে হবে। বাফুফে জানিয়েছে, তারা জমি পেয়েছে। এখন সেখানে কাজ শুরু করতে হবে। এছাড়া কমলাপুর ও বাফুফের টার্ফ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর সোহাগকাণ্ডে গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে কাজী নাবিলকে।

  • তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করবে

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের বিরুদ্ধে  হিসাব গরমিলে ফিফার দেওয়া রিপোর্ট আরো খতিয়ে দেখবে বাফুফের তদন্ত কমিটি। সোহাগকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা। দুই বছর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাফুফে মনে করে, যেসব অনিয়মের কথা উঠে এসেছে, সেসব নিয়ে আরো গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এসব ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খুঁজে বের করবে তদন্ত কমিটি। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ এমপিকে। তাকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। ৩০ কার্যবিদসের মধ্যে একটা রিপোর্ট দেবেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সভা শেষে বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন। নাবিল তখন তার পাশে ছিলেন। বাফুফের চার ঘণ্টার সভা শেষে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন বাফুফের সভাপতি সালাহউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও কাজী নাবিল আহমেদ। নাবিল বলেন, ‘আমরা আগামী সপ্তাহে সভায় বসব। তখন থেকেই জানিয়ে দেব কীভাবে কী করছি আমরা।’

  • মানিক ও মহির সরে যাওয়া

তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সহসভাপতি আতাউর রহমান মানিক ও সহসভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মহি। তারা দুজন কমিটি থেকে সরে গেছেন। তাদের ব্যাপারে কথা হয়েছে। কিন্তু গত সংবাদ সম্মেলনে এই দুই জন জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত কারণে তারা সরে গেছেন। তারা সরে গেলেও অন্য যারা আছেন, তাদের নিয়েই তদন্তকাজ শুরু করবে কমিটি। নতুন কাউকে নেওয়া হবে না। নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সালাহউদ্দিন জবাবে বলেন, ‘এখানে কাজী নাবিল আহ্বায়ক হয়েছেন। তাতে কি আপনি নাবিলের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন? তিনি দেশের সংসদ সদস্য।’

 বাফুফের সদস্য টিপু সুলতান পরে অন্য এক আলোচনায় জানিয়েছেন, সোহাগের সঙ্গে আরো কিছু লোক রয়েছেন বাফুফেতে, তারাও এই কাজে জড়িত। সেটি নিয়েই মূলত তদন্ত কমিটি কাজ করবে। কারণ অপরাধ আরো অনেকেই করেছেন। তারা পার পেতে পারেন না। বাফুফের আরেক কর্মকর্তার দাবি, সোহাগের ডান হাত হাসান মাহমুদ, জাবের বিন আনসারীসহ অনেকেই রয়েছেন সন্দেহের তালিকায়।

  • কক্সবাজারের কুতুপালংয়ে ফিফার প্রজেক্ট

ফিফার অর্থে কক্সবাজারে ফুটবল একাডেমি গড়ে তোলা হবে। ফিফার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জমির নিশ্চয়তা চায়, সেটি হয়ে গেছে বলে দাবি বাফুফের। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘ফিফা বলেছে ডিজাইন করে পাঠাতে। আমরা এসব কাজের অনুমতি দিয়েছি। ওপেন টেন্ডার ডাকব।’ তিনি বলেন, ‘এখানে একটা সমস্যা ছিল জমির বিষয়ে। ফিফা ফরোয়ার্ড ফান্ডের টাকাটা ব্যববহার করতে পারিনি। জমি নিয়ে সমস্যা ছিল। আমরা জমি পেয়েছি। এখন ডিজাইন করে ফিফার কাছে পাঠাব। ফিফা অনুমদোন দিলে কাজ শুরু হবে।’

  • ঢাকার দুই টার্ফ

কমলাপুর স্টেডিয়াম ও বাফুফে ভবনের পাশে টার্ফ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি ফান্ড রয়েছে। এ দুটি টার্ফ প্রায় নষ্ট। সালাহউদ্দিন জানিয়েছেন, প্রায় ৯-১০ বছর হয়েছে। কন্ডিশন খুব খারাপ। অনেক বেশি ব্যবহার হয়েছে। এখানে দুটি টার্ফ স্থাপনের সুযোগ আছে। নতুন টার্ফ পেতে হলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে আমাদের লিজ আছে, সেটি কমপক্ষে ১০ থাকতে হবে। পুরোন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আরো এক-দুই বছর সময় লাগবে। সেটি শেষ হলে নতুন চুক্তির মাধ্যমে নতুন টার্ফ স্থাপন করা হবে। তার আগ পর্যন্ত মেরামত করে চালাতে চায় বাফুফে।

  • টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর চলে যেতে চান

বাফুফের অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল ডাইরেক্টর পল থমাস স্মলি আর বাংলাদেশে থাকতে চান না। তিনি এরই মধ্যে নাকি বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে ব্যক্তিভাবে দেখা করে জানিয়ে এসেছেন তিনি চলে যেতে চান। তিনি নাকি সালাহউদ্দিনকে বলেছেন, বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে যা হচ্ছে, এখানে থাকা যাবে না। কাজ করা যাবে না। সত্যিকার অর্থে ফুটবলকে ভালোবাসার লোকের অভাব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পল থাকতে চাইছেন না।